ভালো থাকতে চাইলে যাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলবেন

প্রকাশ: রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ণ
ভালো থাকতে চাইলে যাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলবেন

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক : আমাদের দৈনন্দিন সামাজিক ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে নানা বৈচিত্র্যময় মানসিকতার মানুষ বসবাস করেন। সবার চিন্তা-ভাবনা, স্বভাব বা জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই এক রকম হয় না। এদের মধ্যে কিছু মানুষের সান্নিধ্য যেমন আমাদের জীবনে নতুন অনুপ্রেরণা জোগায়, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে; ঠিক তেমনি আবার কিছু মানুষের চরম নেতিবাচক আচরণ আমাদের জীবনে তীব্র মানসিক টানাপোড়েন ও হতাশা ডেকে আনে। এই ধরণের নেতিবাচক বা ‘টক্সিক’ মানুষগুলো নিজের অজান্তেই আমাদের ভেতরের সমস্ত পজিটিভ শক্তি ও মানসিক প্রশান্তি শুষে নেয়। তাই মানসিকভাবে নিজেকে সুস্থ, উৎফুল্ল ও ভালো রাখতে জীবনের কিছু মানুষের সঙ্গ সচেতনভাবে এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।

আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘লাইফস্টাইল, মনস্তত্ত্ব ও সুস্থ জীবনধারা’ এবং ‘মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ভারতীয় খ্যাতনামা গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর বিশেষ প্রতিবেদনের আলোকে ক্ষতিকর ব্যক্তিদের চেনার উপায় ও তা পরিহারের নিয়মাবলী বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ দেখা যায়, যারা কখনোই কোনো পরিস্থিতিতে বা কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারেন না। তাদের ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে সবসময়ই কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে এবং তারা সারাক্ষণ সব কিছু নিয়ে শুধু অভিযোগ (Complain) করতে পছন্দ করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কেউ বড় কোনো সাফল্য পেলেও এরা আনন্দের ভিড়েও তার খুঁত বা খামতি খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যেকোনো ভালো ও গঠনমূলক পরামর্শকেও তারা নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। এই ধরনের মানুষদের সঙ্গে বেশি সময় কাটালে আপনার নিজের অবচেতনে থাকা ইতিবাচক মনোভাব ও কাজের স্পৃহা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। তাই জীবনে প্রকৃত শান্তি পেতে চাইলে এদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মনস্তত্ত্ব বলে—মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে এবং ভুলের পর ক্ষমা চাওয়াটাই সুস্থ ব্যক্তিত্বের লক্ষণ। কিন্তু সমাজের একাংশ মানুষ আছেন যারা নিজেরা মারাত্মক ভুল করলেও তা কখনোই মুখে স্বীকার করেন না। এমনকী তারা নিজের ভুলের জন্য অন্যের কাছে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাইতেও চরম কুণ্ঠাবোধ করেন। উল্টো তারা চতুরতার সাথে নিজেদের ভুলের সমস্ত দায় ও দোষ অন্য কোনো নিরপরাধ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে আত্মতৃপ্তি পান। তাদের কারণে সামনের মানুষটি কতটা কষ্ট বা মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা বোঝার মতো ন্যূনতম অনুভূতি বা সহমর্মিতাও তাদের থাকে না। এমন মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন বসবাস বা সম্পর্ক রাখলে নিজের আত্মসম্মান (Self-esteem) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সম্পর্কটি একসময় বিষাক্ত মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কিছু মানুষ পরশ্রীকাতরতার কারণে অন্যের কোনো নতুন স্বপ্ন, উদ্যোগ বা ইচ্ছাকে কখনোই মন থেকে সমর্থন করতে পারেন না। বরং কেউ নতুন কোনো সৃজনশীল কাজ করতে গেলেই তার মেধা ও যোগ্যতার ওপর তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করে বসেন। তারা অবলীলায় ‘তোমার দ্বারা এই কঠিন কাজটা হবে না’ কিংবা ‘তুমি এই পদের বা কাজের যোগ্যই নও’—এমন সব হতাশাজনক ও নেতিবাচক কথাবার্তা বলে সামনের মানুষটির তিল তিল করে গড়ে ওঠা আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা করে। এই সমস্ত ব্যক্তিরা পরোক্ষভাবে সবসময় অন্যের ক্ষতি ও ব্যর্থতা কামনা করে। নিজের ক্যারিয়ার ও মানসিক বিকাশের স্বার্থে এই ধরণের ঈর্ষাপরায়ণ মানুষের ছায়া থেকে দূরে থাকা উচিত।

আমাদের বন্ধুমহলে বা কর্মক্ষেত্রে এমন চাটুকার অনেকেই আছেন, যাদের মূল কাজই হলো আড়ালে অন্য মানুষের চরম বদনাম বা গসিপ (Gossip) করা। অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের ভুলত্রুটি, ব্যর্থতা বা স্ক্যান্ডাল নিয়ে রসালো আলোচনা করে তারা এক ধরণের পৈশাচিক আনন্দ পান। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার—যে ব্যক্তি আজ আপনার সামনে বসে অন্য আরেকজন অনুপস্থিত মানুষের নামে অবলীলায় খারাপ কথা বলছেন বা গীবত করছেন, সে নিশ্চিতভাবেই অন্য কোনো আড্ডায় আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার নামেও ঠিক একই ধরনের কুৎসা রটাতে দ্বিধা করবে না। তাই এদেরকে চিনে নিয়ে প্রথমবারেই লাইফ থেকে মাইনাস করা উচিত।

মনোবিজ্ঞান ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মানুষের আচরণ ক্ষতিকর মনে হওয়ার অর্থ এই নয় যে সমাজের বা পরিবারের সব সম্পর্ক আপনাকে এক ঝটকায় ভেঙে ফেলতে হবে। তবে নিজের মানসিক শান্তি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত আত্মসম্মান রক্ষার তাগিদে কিছু মানুষের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব (Distance) তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সমাজ ও সম্পর্কে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন হলে নিজের ব্যক্তিগত পরিসরে সম্পর্কের একটি সুস্থ সীমানা (Healthy Boundaries) আজই নির্ধারণ করুন, যা আপনাকে ২০২৬ সালের এই জটিল নাগরিক জীবনেও মানসিকভাবে শান্ত ও দীর্ঘজীবী হতে সাহায্য করবে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন