বিশ্রামের সময়ও দুশ্চিন্তা? মনকে বিরতি দেওয়ার সহজ কৌশল

প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ণ
বিশ্রামের সময়ও দুশ্চিন্তা? মনকে বিরতি দেওয়ার সহজ কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক: কর্মব্যস্ত ও দৌড়ঝাঁপের জীবনে কিছুটা অবসর বা ছুটির সুযোগ মিললেও অনেকের মন যেন কিছুতেই থামতে চায় না। কাজ শেষে কিংবা ছুটির দিনে শরীর যখন বিশ্রামে থাকে, তখনও মস্তিষ্কে ঘুরতে থাকে অসম্পূর্ণ কাজ, জমে থাকা দায়িত্ব কিংবা ভবিষ্যতের নানাবিধ দুশ্চিন্তা। ফলে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত মানসিক প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব হয় না।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রখ্যাত থেরাপিস্ট জেফরি মেল্টজারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘদিন একটানা কাজের চাপে থাকার পর হঠাৎ বিশ্রামে গেলেও মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুশ্চিন্তার চক্র থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারে না।

বিশ্রামের সময়ও কেন বাড়ে দুশ্চিন্তা?

থেরাপিস্ট মেল্টজারের মতে, ছুটির দিন বা বিশ্রামের সময় পোষা প্রাণীর দেখভাল, কাজের ডেডলাইন, ট্যাক্স দেওয়া কিংবা কোনো অসম্পূর্ণ কাজ নিয়ে মন অনবরত ভাবতে থাকে। বাইরে থেকে একজন মানুষকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা বিশ্রামে মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তাঁর মস্তিষ্ক তখনও অতিমাত্রায় সক্রিয় থাকে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, আমাদের মস্তিষ্ক অনেক সময় দুশ্চিন্তার বিষয়গুলোকে পুরোপুরি ছেড়ে দিতে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে। অর্থাৎ, চেতনভাবে আমরা নিজেকে বিশ্রাম নেওয়ার অনুমতি দিলেও অবচেতন মন সেটিকে গ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে। এভাবে বিশ্রামের নামে মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকলে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি কাটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে মেল্টজার একটি সচেতন মনস্তাত্ত্বিক কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্রামের জন্য আগে থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে মস্তিষ্ককে স্পষ্ট ও সচেতন বার্তা দিতে হবে যে—ওই সময়টুকুতে কোনো দুশ্চিন্তা বা কাজের কথা ভাবা যাবে না।

উদাহরণস্বরূপ, নিজেকে এভাবে বলা যেতে পারে: "আগামী দুই ঘণ্টা আমি কেবলই বিশ্রাম নেব। এই দুই ঘণ্টার মধ্যে কোনো দায়িত্ব নিয়ে ভাবব না। নির্ধারিত সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টায় আমি জমা থাকা কাজ ও চিন্তাগুলো নিয়ে বসব।"

এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য দুশ্চিন্তাকে জোর করে দমন বা এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং চিন্তা করার জন্য মস্তিষ্ককে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। থেরাপিস্টের মতে, মস্তিষ্ক যখন আশ্বস্ত হয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হারিয়ে বা ভুলে যাওয়া হচ্ছে না এবং পরে সেটি সমাধানের জন্য আলাদা সময় রয়েছে, তখন সাময়িকভাবে দুশ্চিন্তা ছেড়ে দিয়ে বিশ্রাম নেওয়া মস্তিষ্কের জন্য সহজ হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে বিশ্রামের মাঝেই আবার কোনো অসম্পূর্ণ কাজের কথা ভেসে উঠলে নিজেকে হালকাভাবে মনে করিয়ে দিতে হবে—এখন আমার বিরতির সময়, বিষয়টি নির্ধারিত সময়ে ভাবা হবে।

(নোট: এই পরামর্শটি একজন থেরাপিস্টের পর্যবেক্ষণ ও সাধারণ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংগৃহীত। এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষের চিকিৎসাজনিত বা পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সেবার বিকল্প নয়।)

মন্তব্য করুন