হিটস্ট্রোক এড়াতে যেসব খাবার ও পানীয় খাবেন

প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
হিটস্ট্রোক এড়াতে যেসব খাবার ও পানীয় খাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক : গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহ ও তীব্র গরম কেবল সাধারণ মানুষের নাগরিক জীবনে ক্লান্তি আর অস্বস্তিই তৈরি করে না, বরং এই সময়ে সামান্য অসচেতনতায় শরীরে দেখা দিতে পারে নানা জটিল রোগ। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত কড়া রোদে বা উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে অবস্থান করলে মানবদেহে ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা), হিট এক্সহশন, মাংসপেশিতে তীব্র খিঁচুনি, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং এমনকি স্ট্রোক বা হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক ও জীবনঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে। গত ২৯ মে বিকেলে প্রকাশিত এক বিশেষ স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা বিষয়ক প্রতিবেদনে তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় ও বিশেষ খাদ্যতালিকা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে মাথা ঘোরা, ঘন ঘন বমি বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা, হৃৎস্পন্দনের গতি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, মানসিক বিভ্রান্তি বা হুট করে জ্ঞান হারানোর মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এগুলো মূলত হিটস্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ। এই সময়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রক্তের স্বাভাবিক তরলতা বজায় রাখতে কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক খাবার ও পানীয় পানের পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোন ৫টি উপাদান নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখবেন

গরমের দিনে শরীরকে চটজলদি ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে ঘোল এবং লাচ্ছি অত্যন্ত কার্যকর ও যুগোপযোগী পানীয়। টক দই দিয়ে তৈরি এই পানীয়গুলো পাকস্থলীর হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে এবং শরীরকে আর্দ্র করে। তবে বিশেষজ্ঞরা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে খোলা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি কোনো শরবত বা লাচ্ছি খাওয়া যাবে না। এগুলো ডায়রিয়া বা টাইফয়েডের মতো রোগের জন্ম দেয়। তাই যেকোনো পানীয় ঘরে তৈরি হওয়াই শ্রেয়।

প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদ হলো ডাবের পানি। তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই। ডাবের পানিতে থাকা প্রচুর পরিমাণের প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট, পটাশিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া লবণের ঘাটতি নিমিষেই পূরণ করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে।

গ্রীষ্মের ক্লান্তি দূর করতে যুগ যুগ ধরে লেবুর শরবত এক বিশ্বস্ত পানীয় হিসেবে পরিচিত। সাধারণ খাবার পানির সঙ্গে লেবুর রস ও সামান্য লবণ মিশিয়ে ঘরে তৈরি এই পানীয়টি শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, এই শরবতে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ অতিরিক্ত চিনি শরীরকে আরও বেশি ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য করে তোলে।

গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে তরমুজ অন্যতম সেরা পানিসমৃদ্ধ ফল। রসালো ও সুমিষ্ট এই ফলে প্রায় ৯২ শতাংশই পানি থাকে, যা প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাৎক্ষণিক পানির চাহিদা পূরণে দারুণ সহায়ক। নিয়মিত তরমুজ খেলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে, শরীর শীতল হয় এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বহুল পরিমাণে হ্রাস পায়।

শসাকে গ্রীষ্মকালের অন্যতম প্রধান ও উপকারী সবজি বা সালাদ উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রচুর পরিমাণে পানিসমৃদ্ধ এবং কম ক্যালরিযুক্ত এই শসা কাঁচা চিবিয়ে, সালাদ বানিয়ে কিংবা দইয়ের রায়তার সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এটি শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূর করার পাশাপাশি ত্বক ও শরীরকে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড বা সতেজ রাখতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত পরামর্শ হলো— গরমের এই দিনগুলোতে তৃষ্ণা না পেলেও বিরতি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ নিরাপদ পানি পান করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিদিনের ডায়েট চার্ট বা খাদ্যতালিকায় ওপরের এই পানিসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উপাদানগুলো রাখলে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত যেকোনো শারীরিক বিপর্যয় থেকে নিজেকে খুব সহজেই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন