রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ তিন ইমাম নির্বাচিত

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ণ
রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ তিন ইমাম নির্বাচিত

আবু রায়হান, রংপুর ব্যুরো: ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নৈতিক সমাজ গঠনে ইমামদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে রংপুর বিভাগের আট জেলার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ইমামদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে তিনজনকে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে রংপুর বিভাগের আট জেলার প্রত্যেক জেলা থেকে নির্বাচিত তিনজন করে মোট ২৪ জন শ্রেষ্ঠ জেলা পর্যায়ের ইমাম অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, ইমাম প্রশিক্ষণ ও ধর্মীয় সেবার বিভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

সম্মেলনে প্রথম স্থান অর্জন করেন রংপুর জেলার মোঃ মেহেদী হাসান, দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন লালমনিরহাট জেলার মোঃ আব্দুল হান্নান এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন গাইবান্ধা জেলার মোঃ ইমরান হোসাইন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম (এনডিসি)। ইসলামিক ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আশরাফুজ্জামান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম এনডিসি বলেন, “ইমামরা সমাজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেন। আধুনিক ও সচেতন সমাজ বিনির্মাণে ইমামদের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।” তিনি ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, মাদকবিরোধী প্রচারণা, নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ইমামদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “ইমামরা কেবল নামাজ পরিচালনাকারী নন, তারা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইমামদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং ধর্মীয় সেবার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ নির্বাচিত তিন শ্রেষ্ঠ ইমামের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন