ইউক্রেন যুদ্ধে আরও ৫ লাখ সেনা সংগ্রহের পরিকল্পনা পুতিনের: জেলেনস্কি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ণ
ইউক্রেন যুদ্ধে আরও ৫ লাখ সেনা সংগ্রহের পরিকল্পনা পুতিনের: জেলেনস্কি
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সেনা পুনর্বিন্যাস ও নতুন পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তিত পুতিন ও জেলেনস্কি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিধি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন করে প্রায় ৫ লাখ সেনা সমাবেশের (মোবিলাইজেশন) পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় নথির বরাত দিয়ে জেলেনস্কি প্রকাশ করেছেন যে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগে রাশিয়ার আইনসভা ডুমার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পরই ক্রেমলিন এই বিশাল সেনা সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন, "প্রেসিডেন্ট পুতিন এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের কোনো মানসিকতা পোষণ করছেন না।" তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের ভয়ে পুতিন এই সেনা সংগ্রহ উন্মুক্তভাবে না করে কৌশলগতভাবে করবেন। তবে একসাথে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্বল্প সময়ে কার্যকর সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া রাশিয়ার অবকাঠামোর পক্ষে অসম্ভব। এর ফলে যুদ্ধের মাঠে অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নতুন সেনাদের পাঠানো হবে, যার অনিবার্য পরিণতি হবে ব্যাপক প্রাণহানি।

পরমাণু ব্যবহারের আশঙ্কায় তুরস্ক:

এদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করায় এ সংঘাত বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি সতর্ক করে জানান, যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন যখন সাধারণ জনগোষ্ঠীর বাসস্থান ও দেশের অভ্যন্তরে বিস্তৃত হয়, তখন কোনো রাষ্ট্রের জন্য তা অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে পুতিন তার শেষ অস্ত্র হিসেবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করতে পারেন, যা পুরো বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বেসামরিক মৃত্যুর হার বৃদ্ধি:

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যাপক মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা সংঘাতের ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক হামলা। অন্যদিকে, রাশিয়ার পাল্টা হামলায় ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখে দুই পক্ষই দৈনিক শত শত ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে আসছে।

মন্তব্য করুন