ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি: ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির দপ্তর থেকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক কিছু রদবদল আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী সিদ্ধান্ত হলো—সাবেক ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) দীর্ঘমেয়াদী প্রধান মোহসেন রেজায়িকে দেশের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) নতুন সচিব এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রধান প্রতিনিধি নিযুক্ত করা।
৭১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আগমনকে ঘিরে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ ১৬ বছর আইআরজিসির সর্বোচ্চ কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রেজায়ি ১৯৮০-এর দশকে রক্তক্ষয়ী ইরান-ইরাক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সেনাপতি ছিলেন। গত রোববার তাকে নীতি-নির্ধারণী এই পদে স্থলাভিষিক্ত করার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ করা হয়েছে আলী আবদুল্লাহিকে এবং আইআরজিসির নৌপ্রধানের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আলী ওজমাইকে। তাছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় মোহাম্মাদ পাকপুর নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত কট্টরপন্থী আহমাদ ভাহিদিকেও আইআরজিসির মেজর জেনারেল হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সকল নিয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সাথে তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থান নরম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিনা আজোদি মন্তব্য করেছেন, নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্ব বহিরাগত চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে কঠোর ‘প্রতিরোধ নীতি’ বজায় রাখাকেই কৌশলগতভাবে জরুরি বলে মনে করছে।
কেন শঙ্কায় ইসরায়েল? রেজায়ির এই নিয়োগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তেল আবিব তীব্র নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি এবং নবনিযুক্ত আইআরজিসি প্রধান আহমাদ ভাহিদি—উভয়েই ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে ভয়াবহ বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। ওই হামলায় ৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
উভয় ইরানি সামরিক কর্মকর্তার নামই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ইন্টারপোল’-এর শীর্ষ অপরাধী বা ‘রেড নোটিশ’ (Red Notice) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরায়েল অভিযোগ তুলেছে, তেহরান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মদদদাতাদের সাজা না দিয়ে উল্টো রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদে পুরস্কৃত করছে।
আমেরিকা ও সমঝোতাবিরোধী অবস্থান রেজায়ী বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নীতিগত সমঝোতার ঘোর বিরোধী। রাইসি সরকারের আমলে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও তিনি বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। এমনকি কৌশলগত আন্তর্জাতিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে নতুন কোনো মার্কিন করিডোর না দেওয়ার পাশাপাশি ইরানে মার্কিন স্থল হামলা হলে ‘এক হাজার মার্কিন সেনাকে বন্দি করার’ মতো বিস্ফোরক হুমকিও দিয়েছিলেন অতীতে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেজায়ির সামরিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংহতি জোরদার ও তেল আবিবের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ইরান এখন থেকে আরও আগ্রাসী রূপ গ্রহণ করতে পারে।
|