পাকিস্তান সীমান্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তেল পাচার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাবে পাকিস্তান সীমান্তে তেল পাচারের সিন্ডিকেট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ায় ইরান থেকে পাকিস্তানে পাচার হওয়া পেট্রোল ও ডিজেলের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী।
বেলুচিস্তানের উত্তপ্ত মরুপথ দিয়ে হাজার হাজার পাচারকারী মোটরসাইকেলে করে পেট্রোলের কন্টেইনার নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রা করছে। এখানকার তাপমাত্রা অনেক সময় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, ফলে জ্বালানিভর্তি ক্যানগুলো ফেটে বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া এই দুর্গম পথে সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা পাচারকারীদের জীবনকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
পাচারকারীদের ভাষ্যমতে, কর্মসংস্থানের অভাব এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি উচ্চশিক্ষিত তরুণরাও জীবনধারণের তাগিদে এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ইরান থেকে পাকিস্তানে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পাচার হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাচারচক্রের পেছনে অত্যন্ত জটিল রাজনীতি রয়েছে। একদিকে পাকিস্তান ইরান-মার্কিন সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে চায়, অন্যদিকে দীর্ঘ ৯০০ কিলোমিটার দুর্গম সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) ছত্রচ্ছায়ায় এই পাচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
জান্নাত সকালবেলা
|