পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলিমদের বাংলাদেশে পুশব্যাক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাভাষী মুসলিম নাগরিকদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বা ‘পুশব্যাক’-এর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিএসএফ সদস্যরা রাতের অন্ধকারে ব্যক্তিদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যার ফলে সীমান্তে মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ জুন ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষকে এভাবে পুশব্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) তাদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করলে, বহু পরিবার সীমান্তবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ মানবেতর অবস্থায় আটকা পড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় নারী ও শিশুসহ বহু পরিবারকে ৪৮ থেকে ৭৫ ঘণ্টা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে আটকে থাকতে হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উপ-এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি এই ঘটনাকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই এভাবে মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।” তিনি ভারত সরকারকে এই কার্যক্রম বন্ধ করে নাগরিকত্ব নির্ধারণে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বাংলাভাষী মুসলিমদের অনেক ক্ষেত্রে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কেবল অবৈধভাবে বসবাসরতদের প্রত্যাবাসনের সুযোগ দিচ্ছে, তবে মানবাধিকার সংস্থাটি একে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হিসেবে দেখছে।
সীমান্তে আটকে পড়া মানুষদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যাদের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের পুশব্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।
জান্নাত সকালবেলা
|