আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা অভিমুখী আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা বহরের (ফ্লোটিলা) ফরাসি কর্মীদের প্রতি ‘অগ্রহণযোগ্য ও বর্বর আচরণের’ দায়ে ইসরাইলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর কঠোর কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফ্রান্স। ফরাসি নাগরিকদের ওপর হুমকি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার উসকানি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিতর্কিত এই ইসরাইলি মন্ত্রীকে ফ্রান্সে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটি নিশ্চিত করেছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, ফ্রান্স সরকার মূলত গাজা অভিমুখী এই স্বাধীন সাহায্যকারী বহরের (ফ্লোটিলা) রাজনৈতিক পন্থার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। কারণ এই ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বা কার্যকর ফলাফল বয়ে আনে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক এবং কনস্যুলার পরিষেবাগুলোর ওপর বাড়তি প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করে।
তবে এই কৌশলগত দ্বিমতের পরেও কোনো ফরাসি নাগরিকের ওপর অন্যায় হুমকি, ভীতি প্রদর্শন কিংবা শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে তা যদি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আসে বা তাঁর প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ঘটে, তবে ফ্রান্স আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ফরাসি মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ইসরাইলি প্রশাসনের এই বর্বরতা নতুন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি মূলত বেন-গভিরের দীর্ঘদিনের আপত্তিকর রাজনৈতিক বক্তব্য, উগ্র চরমপন্থী কর্মকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অনবরত বর্ণবাদী ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার ধারাবাহিক অপচেষ্টারই একটি অংশ।
সম্প্রতি অবরুদ্ধ গাজার সাধারণ মানুষের জন্য রওনা হওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ তোলেন যে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী অন্যায়ভাবে তাঁদের আটক করার পর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষোভ থেকেই ফ্রান্স সরকার ইসরাইলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন কঠোর কূটনৈতিক ও প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞা জারি করল।
এআইএল/সকালবেলা