গাজা দখলের চক্রান্ত ও অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা

প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
গাজা দখলের চক্রান্ত ও অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তীব্র বোমাবর্ষণ ও ধ্বংসলীলার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার গাজার ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে দখলের চক্রান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেছে ইসরায়েল। টানা ৯ মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই উপত্যকার উত্তরাংশে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে নতুন করে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ নিশ্চিত করেছেন, গাজার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় নিরাপত্তার অজুহাতে তিনটি নতুন 'নাহাল আউটপোস্ট' বা সামরিক-কৃষি ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে দেশটির উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচ প্রকাশ্যে সম্পূর্ণ গাজা উপত্যকা দখলের ডাক দিয়ে জানিয়েছেন, এই এলাকাগুলোতে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিস্তারিত রূপরেখা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দখলকৃত ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক ও বেসামরিক বসতি স্থাপন স্পষ্টতই বেআইনি ও যুদ্ধাপরাধের শামিল। তা সত্ত্বেও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের শুরু থেকেই মূল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে পুরো এলাকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইসাম ইউনিস এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, "যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পিতভাবে গাজার অবকাঠামো, খাবার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করা হচ্ছে, যেন এটি মানববসতির অযোগ্য হয়ে পড়ে। পানি ও খাদ্য সহায়তার মাত্র ২০ শতাংশ প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। এটি বস্তুত গাজাবাসীকে অনাহারে রেখে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে তাদের জমি কেড়ে নেওয়ার এক চূড়ান্ত রূপরেখা।"

বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, ইসরায়েল কৌশলগতভাবে ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রমটিকে ‘মুক্ত চলাচল পরিকল্পনা’ বা ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’ নাম দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা মূলত আন্তর্জাতিক চাপ এড়ানোর কৌশল মাত্র। পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির এক জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও প্রায় ৮২ শতাংশ ইহুদি নাগরিক ফিলিস্তিনিদের এই উচ্ছেদ নীতিকে সরাসরি সমর্থন দেয়।

গত ৯ মাসের তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইসরায়েলি বাহিনীর বিচ্ছিন্ন হামলায় অন্তত ১ হাজার ১২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অপুষ্টি ও তীব্র খাদ্যসংকটে প্রাণ গেছে ২৬৫ জন শিশুর।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও থামেনি ইসরায়েলি সহিংসতা। গত ১১ জুলাই অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ ১৭ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিশোর ফুটবলার ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা গেছেন। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা কেটে ফেলা হলেও শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন