মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় ইরানি হামলার হুমকি
ইরানের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নতুন সামরিক অভিযান চালালে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছে তেহরান।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্তত পাঁচটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পর থেকেই তেহরান তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে।
উক্ত আলোচনায় কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, "যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলায় যদি ইরানের ক্ষতি হয়, তবে আঞ্চলিকভাবে তার চড়া মূল্য চোকাতে হবে।"
ইরানি কৌশলবিদদের ধারণা, ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় ভয়াবহ হামলার মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয় আবার দেখা দিলে তা বৈশ্বিক তেলের বাজারকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলবে। এই আশঙ্কায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ট্রাম্পকে নতুন কোনো আগ্রাসন চালানো থেকে নিরস্ত করতে বাধ্য হবে।
ইরানের এই কড়া হুঁশিয়ারি বার্তার পর ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে আঞ্চলিক দেশগুলো। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে যোগাযোগ করে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই অনড় অবস্থানের মাঝে পড়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
|