জার্মানির প্রাচীনতম গাছ: ১১শ’ বছরের পুরানো ইউ গাছের সন্ধান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
জার্মানির প্রাচীনতম গাছ: ১১শ’ বছরের পুরানো ইউ গাছের সন্ধান
জার্মানির প্রাচীনতম ১১শ’ বছর বয়সী ইউ গাছের প্রাকৃতিক রূপ

অনলাইন ডেস্ক: হাজার বছরের প্রাকৃতিক ও মানব ইতিহাসের এক অনন্য জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে সামনে এলো প্রায় ১,১০০ বছরের পুরানো এক ঐতিহ্যবাহী ইউ (Yew) গাছ। জার্মানির আলগাউ অঞ্চলের একটি নির্জন ও দুর্গম পার্বত্য তৃণভূমিতে আবিষ্কৃত এই গাছটিকে দেশটির ইতিহাসের প্রাচীনতম জীবিত বৃক্ষ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১শ’ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত উত্তর-পশ্চিমমুখী এক তীব্র পাহাড়ি ঢালে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে অলৌকিকভাবে টিকে রয়েছে প্রকৃতির এই অসামান্য বিস্ময়টি।

জার্মান ডেনড্রোলজিক্যাল সোসাইটির জ্যেষ্ঠ বৃক্ষবিজ্ঞানীরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে জানিয়েছেন, বিশাল এই গাছটির গুঁড়ির বেড় প্রায় ৫.১ মিটার প্রশস্ত। গবেষকদের ধারণা, গত ১১শ’ বছর ধরে চরম ঠাণ্ডা, তুষারপাত ও প্রতিকূল পাহাড়ি আবহাওয়া মোকাবিলা করে স্বমহিমায় টিকে রয়েছে গাছটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীনকালে কোনো পাখির মাধ্যমে ইউ কাঠের বীজ পরিবাহিত হয়ে এই দুর্গম পাহাড়ে এসে নতুন প্রাণের সূচনা করেছিল।

প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউরোপীয় অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই ইউ গাছের কাঠ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ছিল। এমনকি ইতালির আল্পস পর্বতমালায় পাওয়া প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরানো বিখ্যাত বরফ-মানব ‘আইসম্যান’-এর শিকারের ধনুকটিও শক্ত ইউ গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এতদিন ধরে জার্মানির নিম্ন স্যাক্সনির উপস্টেট গ্রামে অবস্থিত প্রায় এক হাজার বছরের পুরানো একটি চুন গাছ বা লাইম ট্র্রি (Lime Tree) দেশটির প্রাচীনতম গাছ হিসেবে সর্বজনবিদিত ছিল। নতুন এই ইউ গাছটি চিহ্নিত হওয়ার পর তা আগের সব রেকর্ড ভেঙে শীর্ষ স্থানটি দখল করে নেয়। বয়স ও প্রাচীনত্বের বিচারে এর ঠিক পরেই রয়েছে ওয়েস্টফালিয়ার রায়েসফেল্ডে অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছর বয়সী বিখ্যাত 'এরলে ফেম' ওক গাছ, যা মধ্যযুগে ইউরোপে গোপন বিচারিক আদালত হিসেবে ব্যবহূত হতো।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে প্রথম আবির্ভূত হওয়া এই ইউ গাছ হলো ইউরোপ মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দেশীয় উদ্ভিদের প্রজাতি। চরম ঠাণ্ডা ও শীতকালে দীর্ঘ সময় সূর্যালোক না পাওয়া সত্ত্বেও বরফাবৃত পর্বত চূড়ায় ১,১০০ বছর ধরে বেঁচে থাকা এই গাছটিকে গবেষকরা এক অলৌকিক প্রাকৃতিক স্থাপত্য হিসেবে দেখছেন।

ড্রেসডেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক আন্দ্রিয়াস রলোফ কাণ্ডটির রূপ বর্ণনা করে বলেন, ফাটল, ফোলা অংশ, নানাবিধ খাঁজ ও বড় গর্তে ভরা এই গাছটির কাণ্ড যেন শতাব্দীর পর শতাব্দির রহস্য ও গল্প রূপায়িত করা অনন্য এক স্বপ্নের স্মৃতিস্তম্ভ।

মন্তব্য করুন