ইসরায়েলি বাধায় চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট; গাজায় ১৫০০ রোগীর মৃত্যু

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলি বাধায় চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট; গাজায় ১৫০০ রোগীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও বাধার কারণে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গাজায় চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করতে না দেওয়ায়, কেবল সুচিকিৎসা ও ওষুধের অভাবেই উপত্যকাটিতে দেড় হাজারের বেশি সাধারণ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের চলমান নৃশংস যুদ্ধ ও সর্বাত্মক অবরোধের মধ্যে গাজার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ‘চরম দুর্বিষহ ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির’ মধ্য দিয়ে কাজ করছে। হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য খাতের এই ভেঙে পড়ার চিত্র তুলে ধরে মুনির আল-বারশ অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, “দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী আজ পর্যন্ত যেসব জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি, সেগুলোর অভাবেই মূলত এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, প্রয়োজনীয় ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে গাজায় চিকিৎসাধীন মোট কিডনি রোগীদের ৫০ শতাংশেরও বেশি ইতিমধ্যে মারা গেছেন। আমরা চোখের সামনে প্রতিদিনই শত শত অসহায় রোগীকে হারাচ্ছি।”

আল-বারশ আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মহলের বারবার তাগাদা সত্ত্বেও চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই একগুঁয়ে বাধা ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে চলমান সংকট দিন দিন আরও বেশি তীব্র ও ঘনীভূত হচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, যুদ্ধের অজুহাতে গাজার হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক, এনেস্থেশিয়া, সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও ক্যানসার-কিডনি রোগের বিশেষায়িত ওষুধ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তেল আবিব। এর ফলে কোনো ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার বা বিশেষায়িত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে লাখ লাখ সাধারণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং গাজায় এক নীরব মানব বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন