ব্রাজিল সমর্থকের আত্মহত্যায় অভিনেতা অপূর্বর শোক ও সতর্কবার্তা
বিনোদন প্রতিবেদক: উত্তর আমেরিকার মাটিতে চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের আকস্মিক বিদায়ের পর কুষ্টিয়ায় এক তরুণ ভক্তের আত্মহত্যার খবর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে যখন তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা চলছে, তখন বিষয়টি গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন ও ওটিটি অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে। প্রিয় দলের হার ও তা নিয়ে প্রতিপক্ষের নোংরা কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে এক যুবকের নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এই তারকা।
গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে। নিহত তরুণের নাম রতন (২১), যিনি পেশায় একজন দিনমজুর ও হোসেন মিস্ত্রির ছেলে ছিলেন। রতনের পরিবারের দাবি, রবিবার রাতে প্রিয় দল ব্রাজিল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর আশপাশের মানুষ ও প্রতিপক্ষ সমর্থকেরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে চরম ট্রল, কটু কথা ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এই তীব্র অপমান ও হেয় প্রতিপন্ন হওয়া সহ্য করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি এবং পরবর্তীতে আত্মহননের পথ বেছে নেন। মৃত্যুকালে তিনি মাত্র দুই মাস বয়সী একটি অবুজ কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেতা অপূর্ব নিজেও লাতিন পরাশক্তি ব্রাজিলের একজন কড়া ও একনিষ্ঠ সমর্থক। নিজ দলের বিদায়ের কষ্টের মাঝেই এই মর্মান্তিক খবরটি পাওয়ার পর আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট দেন তিনি। সেখানে তিনি দেশের কোটি ফুটবল ভক্তকে উদ্দেশ্য করে খেলাকে স্রেফ ‘বিনোদনের’ জায়গায় রাখার জোরালো আহ্বান জানান এবং মানবজীবনকে খেলার চেয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন।
জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব তাঁর পোস্টে লিখেছেন:
"ব্রাজিল হারায় কুষ্টিয়ার একটা ছেলে সুইসাইড করেছে, রেখে গেছে দুই মাসের শিশুসন্তান। এই নিউজটা দেখে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। আপনারা খেলাকে বিনোদন হিসেবে নিন। এখানে হার-জিত থাকবেই। প্রিয় দল জিতলে ভালো লাগবে, হারলে খারাপ লাগবে। তবে সেটা জীবনের থেকে যেন বড় না হয়। কারণ দিনশেষে এটা শুধু একটা খেলা।"
বিশ্বকাপ বা যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চায়ের দোকানে যেভাবে ট্রল বা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি সীমা লঙ্ঘন করে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছোটপর্দার এই শীর্ষ অভিনেতা। ট্রলের নামে কাউকে মানসিকভাবে পঙ্গু বা হেয় করার সংস্কৃতি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন:
"ট্রল খেলার একটা অংশ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ট্রল, অপমান বা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করাটা এবার বন্ধ করুন। আপনার কাছে হয়তো একটা ট্রল করা বা কাউকে খোঁচা দেওয়া স্রেফ একটা মজা হতে পারে, কিন্তু অন্য কারোর জন্য সেই কথাটাই মানসিকভাবে অনেক বড় কষ্টের বা আত্মহত্যার কারণ হতে পারে।"
সবশেষে আবেগতাড়িত ভক্তদের বাস্তব দুনিয়ায় ফেরার এবং জীবনের আসল মূল্য বোঝার তাগিদ দিয়ে অপূর্ব লিখেছেন:
"একটা দল আজ হারলে ভবিষ্যতে তারা আবার জিতবে, আজ ট্রফি না পেলে সামনে কোনো এক বিশ্বকাপে আবার পাবে। কিন্তু একটা অমূল্য জীবন যদি একবার চলে যায়, সেটা আর কোনোদিন কোনো ট্রফি দিয়েই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।"
অপূর্বর এই সময়োপযোগী পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার নেটিজেন তাঁর এই জীবনমুখী ও সচেতনতামূলক বার্তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ফুটবল উন্মাদনা যেন কারও পারিবারিক ট্র্যাজেডির কারণ না হয়—এটাই এখন সচেতন মহলের কাম্য।
|