যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পরবর্তী নেতা তথা দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন অ্যান্ডি বার্নহাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে দলের সিংহভাগ আইনপ্রণেতা (এমপি) তাকে মনোনীত করেছেন। প্রথম দফার মনোনয়ন গণনায় ৪০০ জনেরও বেশি লেবার এমপির মধ্যে ৩২২ জনই বার্নহামের প্রতি তাঁদের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে দাঁড়ানোর পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বার্নহামের আর মাত্র একজন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি প্রয়োজনীয় ৩২৩টি মনোনয়নের কোটা থেকে মাত্র এক ভোট দূরে আছেন। দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কিছু ব্যস্ততার কারণে তারা উপস্থিত থাকতে না পারলেও পার্লামেন্টে ফিরেই অ্যান্ডি বার্নহামকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেবেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন কোনো প্রার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে আগামী সপ্তাহেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা ঘোষণা করা হবে এবং আগামী ২০ জুলাই তিনি ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করবেন।

কয়েক সপ্তাহ আগে মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে আসা ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়রের জন্য এটি একটি অভাবনীয় রাজনৈতিক উত্থান। এক বিবৃতিতে বার্নহাম তাঁর ওপর গভীর আস্থা রাখার জন্য দলের সব স্তরের এমপিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছ থেকে আসা এই বিপুল সমর্থন প্রমাণ করে যে ব্রিটেনের রাজনীতিতে এখন একটি নতুন ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু ওয়েস্টমিনস্টার থেকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির চরম বিপর্যয় এবং পরবর্তীতে উপ-নির্বাচনে বার্নহামের চমকপ্রদ জয়ের পর কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরেই তীব্র প্রশ্ন ওঠে। দলের শীর্ষ নেতাদের চাপের মুখে অবশেষে বার্নহাম এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন স্টারমার।

দলের নতুন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রার্থীদের আগামী সপ্তাহের বুধবারের মধ্যে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। তবে বার্নহাম ইতোমধ্যে ৩২৩ জন এমপির সমর্থন পেয়ে যাওয়ায় অন্য কারও পক্ষে এই কোটা পূরণ করা গাণিতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া লেবার পার্টির সঙ্গে যুক্ত ৩১টি সমাজতান্ত্রিক সমাজ ও ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত তিনটির মনোনয়ন পেতে হবে তাকে, যা এখন কেবল সময়ের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০১০ ও ২০১৫ সালের নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়া বার্নহাম এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখতে যাচ্ছেন। সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আল কার্নস এই দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ আরও মসৃণ হয়।

তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দলের ভেতর থেকেই অনেকে তাঁর ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় নীতি ও পরিকল্পনা বিস্তারিত প্রকাশের দাবি তুলেছেন। ২০১৭ সালে ওয়েস্টমিনস্টার ছাড়ার পর দীর্ঘ বিরতির কারণে বর্তমানের নতুন এমপিদের অনেকের সাথেই তাঁর ব্যক্তিগত সংযোগ তুলনামূলক কম, যা তাঁর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) এমপিদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক রূপরেখা প্রকাশ করবেন বলে জানা গেছে।

বার্নহাম ইতোমধ্যেই তাঁর হবু সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা প্রকাশ করেছেন। তিনি ম্যানচেস্টারে একটি নতুন ‘নম্বর ১০’ ইউনিট খোলার প্রস্তাব করেছেন, যা আবাসন ও গণপরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্থানীয় সরকারকে আরও বেশি ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ দেবে। পাশাপাশি পানি ও জ্বালানি খাতকে সরাসরি জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক অবস্থানের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন বার্নহাম। একই সাথে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাতে টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাসও দিয়েছেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বার্নহামের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি দেশের জন্য একজন অত্যন্ত দক্ষ প্রধানমন্ত্রী হবেন।

সূত্র: বিবিসি

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন