বরিশালে থানায় হামলার ঘটনায় আটক ১৮ জন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে থানায় হামলার ঘটনায় আটক ১৮ জন
অনলাইন ডেস্ক ঃ বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারীসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে থানায় হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আহত করার ঘটনায় ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর মামলা দায়ের করে পুলিশ। দায়েরকৃত মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি ৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান।

ওসি মাসুদ খান জানান, মামলা দায়েরের পরপরই বৃহস্পতিবার রাতে থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তার, সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাঈম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার, তানজিলা আক্তারসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার তাঁদের কঠোর নিরাপত্তায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনি জনতাবদ্ধে সমাবেশ, দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি, সরকারি কাজে চরম বাধা প্রদান, পুলিশকে লক্ষ্য করে মারধর, হত্যাচেষ্টা, থানার আসবাবপত্র ভাঙচুর, চুরি, হুমকি এবং যৌথভাবে অপরাধ সংঘটনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় একটি চুরির মামলায় রিয়াজ ফকির নামে এক স্থানীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ওই দিন রাতেই থানা হাজতের ভেতর রিয়াজ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে নিজের মাথায় নিজেই উপর্যুপরি আঘাত করলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করে।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ করে এলাকায় রিয়াজের মৃত্যুর একটি অসত্য ও উসকানিমূলক গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে রিয়াজের উত্তেজিত স্বজন ও শত শত স্থানীয় লোক লাঠিসোটা নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় চড়াও হয় এবং ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আগৈলঝাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিমসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং হামলাকারীদের কয়েকজনসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন—কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফারহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল-আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তাঁরা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে থানা এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মন্তব্য করুন