ট্রাম্পের ফাঁদে আরবরা, যুদ্ধ বন্ধে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার দাবি

ট্রাম্পের ফাঁদে আরবরা, যুদ্ধ বন্ধে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার দাবি

ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। কয়েকটি আরব দেশের অনুরোধে ওয়াশিংটন এই হামলা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশ পেলেও সৌদি আরব তা অস্বীকার করেছে। তবে যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই জানা গেছে, আরব দেশগুলোকে নতুন করে বড় আর্থিক ফাঁদে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বা বন্ধ করার বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেছেন।

বিবিসি অ্যারাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমানের সাংবাদিক সালেম আল-জুহুরি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর কাছে ট্রিলিয়ন ডলার দাবি করেছে। জুহুরি জানান, কিছু ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, এই দাবিগুলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং বন্ধ করা—উভয় বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

জুহুরি বলেন, ‘আজ আমরা এমন কিছু তথ্য ফাঁসের বিষয়ে কথা বলছি যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন যে, জিসিসি রাষ্ট্রগুলো যদি এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তুায় তবে তাদের প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হবে। আর যদি তারা এটি বন্ধ করতে চায়, তবে এই কয়েক দিনে যা অর্জিত হয়েছে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হবে।’

ওমানি এই সাংবাদিক আরও অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে সামরিক ও আর্থিকভাবে এই সংঘাতে অংশ নিতে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে। মূলত আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই আর্থিক ও সামরিক চাপের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা উপসাগরীয় কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মন্তব্যগুলো মূলত বিবিসি অ্যারাবিক সম্প্রচারের সময় উল্লিখিত ‘ফাঁস হওয়া তথ্যের’ ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক ও মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে।

সূত্র: তুর্কি টুডে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন