ওয়াশিংটন ও তেহরান যখন নতুন সংঘাত এড়াতে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ওমানের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ওই আলোচনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা পরিমাপ করতে পেরেছে তেহরান এবং কূটনীতি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট ঐক্যমতে পৌঁছেছে দুই দেশ।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ ও অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘খুব কঠিন কিছু’ করতে হবে। তিনি বলেন, হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো আমাদের খুব কঠিন কোনও পদক্ষেপ নিতে হবে।
পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এশিয়ায় থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে থাকা ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ রণতরি দুটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস ফোর্ড মোতায়েনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
যুক্তরাষ্ট্র চায় পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও আলোচনার আওতায় আনতে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইসরায়েলি চাপের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যদিকে, বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যেকোনও আলোচনায় তেহরান তাদের ওপর থেকে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক অধিকারের দাবিতে অনড় থাকবে।
বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের খুব কাছাকাছি। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি সোমবার বলেন, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মান কমানোর বিষয়টি নির্ভর করছে বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে কি না তার ওপর।
এ প্রসঙ্গে আর্মেনিয়া সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনার ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা কোথায় হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্সের স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কাতারের আল-উদেইদসহ বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এই উত্তেজনার প্রভাবে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
পরবর্তী দফার আলোচনা কোথায় বা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইরানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি বর্তমানে কাতার সফরে রয়েছেন।
আই.এ/সকালবেলা