হরমুজে টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী

হরমুজে টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আরোপ করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের বৈশ্বিক নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ।

ডোমিঙ্গেজ বলেন, ইরান এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাখ্যান করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই ইস্যুতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোমিঙ্গেজ বলেন, কোনো দেশেরই এই ধরনের প্রণালিতে টোল বা অতিরিক্ত ফি আরোপের অধিকার নেই। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের টোল আরোপের দৃষ্টান্ত তৈরি হলে তা বৈশ্বিক নৌপরিবহনের জন্য ক্ষতিকর হবে। তাই আমি সবাইকে আহ্বান জানাব, এ ধরনের ব্যবস্থাকে সমর্থন না করতে। খবর আল জাজিরার।

স্থানীয় সময় শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তেহরান এখনও ওয়াশিংটনের শর্ত—বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি প্রত্যাহার মেনে নেয়নি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব উপস্থাপন করে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি চুক্তি না হওয়ার প্রধান কারণ, যেখানে প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয় ছিল।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বাস্তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে, ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির শুরু থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ২২টি জাহাজ প্রণালি ত্যাগ করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শনিবার জানায়, তারা দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রণালিতে পাঠিয়ে ইরানি মাইন অপসারণের চেষ্টা চালিয়েছে—যদিও ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে। এর একদিন আগে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, খুব শিগগিরই প্রণালি পুনরায় চালু হবে।

ডোমিঙ্গেজ বলেন, প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনের মূল সমাধান হলো যুদ্ধের অবসান। সংঘাত শুরুর আগে এখানে জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা ছিল না। যুদ্ধ শেষ হলে ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। তবে নিরাপদ চলাচলের জন্য মাইনসহ অন্যান্য ঝুঁকি দূর করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ডোমিঙ্গেজ আরও বলেন, নতুন কোনো চুক্তি বা কাঠামোর প্রয়োজন নেই। ১৯৬৮ সালে ইরান ও ওমানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রাফিক বিভাজন চুক্তিই কার্যকর ছিল। বর্তমানে প্রণালির অচলাবস্থার কারণে উপসাগরে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডোমিঙ্গেজ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়বে, তবে তার মূল উদ্বেগ জাহাজে থাকা সাধারণ নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে। সূত্র: আল জাজিরা।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন