সমালোচনা ও প্রোপাগান্ডা নিয়ে মুখ খুললেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

প্রকাশ: রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ণ
সমালোচনা ও প্রোপাগান্ডা নিয়ে মুখ খুললেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলাদেশের প্রখ্যাত ও প্রভাবশালী চলচ্চিত্র ও নাট্যনির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (Mostofa Sarwar Farooki)। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই যেমন আলোচনা-সমালোচনা চলছিল, তেমনি সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার পারদ আরও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের নানামুখী অপপ্রচার, সমালোচনা ও মনগড়া প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে নীরবতা ভেঙে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই নির্মাতা।

আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুর ২টা ৭ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তারকা কথন, গ্ল্যামার ও বিনোদন’ এবং ‘জাতীয় রাজনীতি, সংস্কৃতি অঙ্গন, সেলিব্রেটি লাইফস্টাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রোপাগান্ডা মনিটরিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সেই ফেসবুক পোস্টের অন্তর্নিহিত অর্থ এবং তাঁর আক্ষেপের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া সেই পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী শুরুতেই উল্লেখ করেন যে, সমাজে বা রাষ্ট্রে কোনো ভালো কাজ করতে গেলে তার জন্য কোনো না কোনো মূল্য বা কাফফারা দিতে হয়। এই চিরন্তন উপলব্ধি ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই তিনি সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার কঠিন ঝুঁকিটি নিয়েছিলেন। তবে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে সেই মূল্য বা সামাজিক কাফফারা যে এতটা কুৎসিত, ভয়ংকর ও কঠিন রূপ নেবে—তা তিনি আগে থেকে এতটা অনুমান করতে পারেননি। ফারুকী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয়। এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা যে এতটা ভয়াবহ হবে, ভাবিনি।”

নিজেকে ঘিরে চলমান সমালোচনার ধরন এবং সমালোচকদের যোগ্যতা নিয়ে গভীর আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে এমন অনেক মানুষ তাঁকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা সমালোচনা করছেন, যাদের মনন বা কাজের পরিধি নিয়ে অতীতে কখনও ভাবারও প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। এমনকি বিগত দিনে তাঁর মেধা, আড্ডা কিংবা আলোচনার কোনো অংশেই এই সমস্ত মানুষের বিন্দুমাত্র স্থান বা নাম উচ্চারিত হয়নি।

তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করে ফারুকী তাঁর চেনা চটজলদি ভাষার ভঙ্গিতে লেখেন, “এমনসব মানুষ আমাদের নিয়ে কথা বলছে, যাদের উত্তর দিলেও সম্মান থাকে না। তারা কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিল না। তাদের নামও আমাদের আড্ডায় উচ্চারিত হয়নি। অথচ এখন সাংবাদিকরা ফোন করে তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। এটাই হয়তো সেই কাফফারা।” তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বর্তমানের অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সমাজ ও গণমাধ্যমের খাতিরে এমনসব নগণ্য মানুষের মনগড়া বক্তব্যের জবাব দিতে হচ্ছে, যা তাঁর মতো একজন প্রতিষ্ঠিত গুণী মানুষের জন্য বেশ অসম্মানজনক।

তবে চারদিকের এই তীব্র সমালোচনা ও অপপ্রচারে দমে যাওয়ার পাত্র যে তিনি নন, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই নির্মাতা। ফারুকী দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, তা নেতিবাচক নয়; বরং পরোক্ষভাবে এটিই প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনের সংক্ষিপ্ত সময়ে একদম সঠিক পথেই ছিলেন এবং নিজের কাজটা সততার সাথে করতে পেরেছেন। স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে লেখেন, “এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডাই বলে দেয়, আমি আমার কাজটা ঠিকমতো করতে পেরেছি।” তাঁর এই সাহসী ও স্পষ্টবাদী পোস্টের পর ইতিমধ্যেই বিনোদন অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্মাতা ও অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন