লাইভ-অ্যাকশন সিনেমা ‘মোয়ানা’ আজ থেকে স্টার সিনেপ্লেক্সে
বিনোদন ডেস্ক: অ্যানিমেশনপ্রেমী দর্শকদের কাছে ‘মোয়ানা’ শুধু একটি চমৎকার রূপকথার চলচ্চিত্রের নাম নয়, বরং সাহস, স্বপ্ন আর নিজের আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য মিউজিক্যাল অনুপ্রেরণা। ২০১৬ সালে ডিজনির অ্যানিমেটেড ‘মোয়ানা’ মুক্তি পেয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাস গড়েছিল। এরপর ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এর সিক্যুয়াল ‘মোয়ানা ২’ বক্স অফিসে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এর জনপ্রিয়তা নিয়ে যায় অন্য মাত্রায়। এবার সেই তুমুল জনপ্রিয় ভালোবাসার গল্পটি অ্যানিমেশনের কাল্পনিক দুনিয়া পেরিয়ে জীবন্ত রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে রূপালী পর্দায়।
বিশ্বব্যাপী মুক্তির ঐতিহাসিক দিন আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকেই ঢাকার আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’-এ মুক্তি পেয়েছে ডিজনির বহুল প্রতীক্ষিত লাইভ-অ্যাকশন (Live-Action) সংস্করণ ‘মোয়ানা’।
টমাস কাইল পরিচালিত ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের এই সিনেমাটিতে বাস্তব অভিনেতাদের দুর্দান্ত অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে হলিউডের অত্যন্ত আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (VFX) ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সিনেমাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, ডেমি-গড বা অর্ধ-দেবতা ‘মাউই’ চরিত্রে ‘দ্য রক’ খ্যাত সুপারস্টার ডোয়াইন জনসনের (Dwayne Johnson) সশরীরে প্রত্যাবর্তন। ২০১৬ সালের মূল অ্যানিমেটেড সংস্করণে এই চরিত্রটিতে শুধু কণ্ঠ (Voice-over) দিয়েছিলেন তিনি। তবে এবারই প্রথম তিনি সরাসরি ভারী মেকআপ ও ট্যাটু নিয়ে মাউই সেজে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করেছেন।
এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে ডোয়াইন জনসন বলেন, “লাইভ-অ্যাকশনে সশরীরে মাউই চরিত্রে অভিনয় করাটা আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্য সব অ্যাকশন কাজ থেকে একেবারেই আলাদা ও বিশেষ কিছু। বড় পর্দায় আমাদের প্রাচীন পলিনেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামুদ্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধকে এত বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের।” তিনি আরও জানান, এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে তিনি নিজের স্বর্গীয় দাদার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছেন এবং হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে কাটানো তাঁর নিজের শৈশবের স্মৃতিগুলো চরিত্রটিকে আরও প্রাণবন্ত করতে সাহায্য করেছে।
এদিকে সিনেমার মূল নামভূমিকা বা ‘মোয়ানা’ চরিত্রের কাস্টিং নিয়ে হলিউডে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রায় ৩২ হাজারের বেশি তরুণীর আবেদন ও অডিশন স্ক্রিনিং শেষে মোয়ানা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন নবাগত প্রতিভাবান অভিনেত্রী ক্যাথরিন লাগাইয়া (Catherine Laga'aia)। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া সামোয়ান বংশোদ্ভূত এই কিশোরী প্রথম অডিশনেই সিনেমার আইকনিক গান ‘হাউ ফার আই'ল গো’ (How Far I'll Go) গেয়ে ডিজনির জুরি বোর্ড ও নির্মাতাদের চোখ থেকে জল এনে দিয়েছিলেন।
চরিত্রটি পাওয়া প্রসঙ্গে উচ্ছ্বসিত ক্যাথরিন বলেন, “মোয়ানা আমার ছোটবেলার একদম প্রথম সুপারহিরোইন বা নায়িকা। তাঁর অদম্য সাহস, সমুদ্রের প্রতি কৌতূহল ও নিজের স্বপ্নকে ছোঁয়ার শক্তি আমাকে আজকের একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হয়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। তাই এই চরিত্রে যখন আমি অভিনয় করেছি, তখন খুব সহজেই মেঘনার মতো নিজেকে গল্পের সাথে একাত্ম করতে পেরেছি।”
সিনেমার মূল প্রেক্ষাপট ও শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনিতে দেখা যাবে, নিজের দ্বীপ মোতুনুই ও তাঁর নিজ সম্প্রদায়কে এক প্রাচীন অভিশাপ ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সমুদ্রের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় একাই বের হয় সাহসী ও জেদি কিশোরী মোয়ানা। পথিমধ্যে তাঁর সঙ্গী হয় শক্তিশালী, বিশাল আকৃতির কিন্তু অত্যন্ত অহংকারী ও চঞ্চল অর্ধ-দেবতা মাউই। সমুদ্রের দানব, রাগান্বিত লার্ভা দানবী আর নানাবিধ প্রাকৃতিক মহাবিপদ অতিক্রম করে তারা কীভাবে প্রকৃতির হারিয়ে যাওয়া ভারসাম্য বা ‘তে ফিতি’র হৃদয় ফিরিয়ে দেয় এবং সেই যাত্রায় কীভাবে মোয়ানা নিজেকে একজন সফল নাবিক হিসেবে আবিষ্কার করে— তা-ই অত্যন্ত চমৎকার অ্যাকশনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। আজ থেকেই স্টার সিনেপ্লেক্সের বিভিন্ন শাখায় সিনেমাটির নিয়মিত শো উপভোগ করতে পারবেন দেশের সিনেমা দর্শকেরা।
|