বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিমান, সাহসী ও গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম কিংবা বিচ্ছেদ— যেকোনো বিষয়ে বরাবরই সংবাদমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত খোলামেলা ও স্পষ্ট কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ খ্যাত তারকা। সম্প্রতি ঈদুল আজহার বিশেষ আনন্দঘন পরিবেশকে কেন্দ্র করে একটি জনপ্রিয় অনলাইন টকশো বা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম, নতুন করে বিয়ের পরিকল্পনা এবং অতীতের নানা তিক্ত ও মধুর অভিজ্ঞতা নিয়ে অত্যন্ত অকপটে ও রসাত্মকভাবে কথা বলেছেন তিনি।
গতকাল শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে প্রকাশিত এই বিশেষ সেলিব্রেটি আড্ডার প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই বিনোদন অঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে বাঁধনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, জীবনের এই পর্যায়ে এসে নতুন করে প্রেম করা কিংবা সংসারী হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে বিন্দুমাত্র আমতা আমতা না করে এই অভিনেত্রী সরাসরি জানান, গত বছর তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসার বড় ধরণের পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি বিয়ে করার মতো একজন মনমতো মানুষও তাঁর জীবনে চলেও এসেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কটি আর সামাজিক পরিণতির রূপ পায়নি।
নিজের জীবনের এই সিক্রেট ও মজার ঘটনাটি শেয়ার করে বাঁধন বলেন, ‘আমি সত্যি বলছি, গত বছর আমার বিয়ের একটা সিরিয়াস পরিকল্পনা ছিল। তবে পরিকল্পনা থাকলেও তো হবে না, আমার মনমতো ও পছন্দমতো মানুষ পেতে হবে। গত বছর বিয়ে করার মতো একজনকে পেয়েও ছিলাম। যার মা-ও আমাকে ভীষণ পছন্দ করেছিলেন এবং সবকিছু ঠিকঠাকই এগোচ্ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত মূহূর্তে সে আসলে আমাকে রেখে ভেগে গেছে!’
বর্তমানে তিনি বিয়ের জন্য পারফেক্ট ও উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলেও অত্যন্ত সরলভাবে স্বীকার করেন। তবে জীবনের এই একাকীত্ব কাটাতে প্রেমের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা যে তাঁর জীবনে সাম্প্রতিক সময়েও ছিল, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন এই তারকা। নিজের বর্তমান রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘এখন সত্যি বলতে আমি বিয়ে করার মতো যোগ্য পাত্র আমার আশপাশে খুঁজে পাই নাই। তবে হ্যাঁ, প্রেম করার জন্য দুই-একজনকে মাঝখানে পেয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনের সঙ্গে বেশ কিছুদিন মন দিয়ে প্রেমও করেছি। কিন্তু দিনশেষে ঘর বাঁধার বা বিয়ে করার জন্য পাত্রটি আসলে কেমন, সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
নিজের অতীত জীবনের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা টেনে বাঁধন কিছুটা মজার ছলে ও সতর্কতার সুরে বলেন, ‘বিয়ে তো আমি ইতোমধ্যে জীবনে দুইবার করে ফেলেছি। এখন জীবনের এই পরিপক্ক বয়সে এসে আর নিশ্চয়ই হুট করে সেই আগের ভুলটা পুনরায় করা যাবে না। তাই এবার পাত্র নির্বাচনে আমি অনেক বেশি সতর্ক।’
অনলাইন এই চমৎকার আলাপচারিতায় নতুন জীবনের খবরের পাশাপাশি নিজের শৈশবের ঈদকে ঘিরে জমানো একরাশ মধুর স্মৃতিও ভক্তদের সামনে তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি জানান, ছোটবেলায় তাঁদের কাছে কোরবানির ঈদ মানেই ছিল এক অন্যরকম রোমাঞ্চ। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অবস্থিত তাঁদের পৈতৃক গ্রামের বাড়িতে যেতেন তারা। সেখানে পুরো গ্রামীণ পরিবেশে উদযাপিত ঈদের সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি আজও তাঁর মনে রূপালী পর্দার মতো জ্বলজ্বল করে ভাসে।
তবে সময়ের আবর্তে ও বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঈদের চিরচেনা অনুভূতিও অনেকটাই বদলে গেছে বলে মনে করেন এই সুনিপুণ অভিনেত্রী। তাঁর মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন ঈদের আনন্দের চেয়ে পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধই মনে বেশি জাগ্রত ও অনুভূত হয়। আর ছোটবেলার রোজার ঈদের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল দলবেঁধে সিনেমা হলে গিয়ে নতুন ছবি দেখা, যা এখনও তাঁর স্মৃতির মণিকোঠায় এক বিশেষ ও অনন্য জায়গা জুড়ে রয়েছে। বর্তমানে বাঁধন দুই বাংলায় বেশ কিছু ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও সিনেমার কাজ নিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জান্নাত সকালাবেলা