ফুলের সাজে সেজেছে রাজধানী

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফুলের সাজে সেজেছে রাজধানী

ধুলোবালি, যানজট আর কংক্রিটের দেয়াল—এই নিয়েই জাদুর শহর ঢাকা। ইট-পাথরের এই যান্ত্রিক নগরে যখন মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে বাহারি রঙের নানা ফুল। রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক, পার্ক ও উদ্যানগুলোতে এখন ফুলের জলসা। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা আর জারুলের বেগুনি কোমলতা শহরবাসীকে দিচ্ছে প্রশান্তির ছোঁয়া। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দূষণ আর যান্ত্রিকতার ভিড়েও প্রকৃতি তার রূপের ডালি সাজিয়ে বসেছে। হাতিরঝিলের পাড় এখন কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে জ্বলজ্বল করছে, যা দেখে ক্লান্ত পথিকের চোখেও মুখে মুগ্ধতার আভা ফুটে উঠছে।

শহরের ফুসফুসখ্যাত রমনা পার্কে ভোরের বাতাস এখন বেলি, রঙ্গন আর কাঠগোলাপের সুবাসে ম ম করছে। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে অনেক মানুষ এখানে আসছেন দুদণ্ড প্রশান্তির খোঁজে। ধানমন্ডি লেক থেকে শুরু করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত সর্বত্রই এখন বাগানবিলাস আর টগরের সমাহার। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং বিজয় সরণি থেকে শ্যামলী পর্যন্ত সড়কগুলোতে সোনালু ও রাধাচূড়ার মায়া ছড়িয়ে আছে। বাতাসের দোলায় দুলতে থাকা এই ফুলগুলো কেবল পথের সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং নগরবাসীর মনে এক ধরনের মানবিক প্রশান্তিও যোগ করছে। এছাড়া পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বলধা গার্ডেনে গোলাপ, লিলি ও নাগলিঙ্গমসহ অসংখ্য দেশি-বিদেশি ফুলের মেলা বসেছে।

যান্ত্রিকতার আড়ালে ঢাকার অন্যরকম এক সৌন্দর্যের গল্প ফুটে উঠছে মানুষের ব্যক্তিগত ছাদবাগানগুলোতেও। ধানমন্ডি, আফতাবনগর ও কলাবাগানের অনেক ভবনের ছাদে ফুটেছে সূর্যমুখী, ডালিয়া ও পদ্ম। দিনের শেষে ক্লান্ত মানুষগুলো তাদের এই সবুজ অরণ্যে ফিরে খুঁজে পাচ্ছেন স্বস্তির মুহূর্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বিশাল নাগলিঙ্গম গাছটি এখন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবিদ ও নগরবাসী বলছেন, শত দূষণ আর ব্যস্ততার মাঝেও এই ফুলগুলো মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতি এখনও শহরটিকে ছেড়ে যায়নি। কংক্রিটের এই কঠিন হৃদয়ে ফুল ও সুবাসের এই মেলবন্ধন ঢাকাকে দিচ্ছে এক নতুন ও স্নিগ্ধ পরিচয়।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন