আশুরা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও ইসলামের সঠিক নির্দেশনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ণ
আশুরা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও ইসলামের সঠিক নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ ‘আশুরা’ ঘিরে আমাদের সমাজে অনেক প্রথা ও লোকজ বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব রীতিকে ধর্মীয় আচার মনে করে পালন করা হলেও, বিশুদ্ধ কুরআন ও হাদিসের আলোকে সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আশুরার দিনটি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা অনেক সময় ভিত্তিহীন বিশ্বাসের ভিড়ে আড়ালে পড়ে যায়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মহররমের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের জুলুম থেকে হজরত মুসা (আ.) ও বনী ইসরাঈলকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর ১০ মহররম রোজা পালন শুরু করেন এবং উম্মতকে রোজা রাখার নির্দেশ দেন। এটি একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত, যা বিগত এক বছরের ছোট গুনাহ মাফ করে দেয় বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

প্রচলিত কিছু ভিত্তিহীন বিশ্বাস: সমাজের নানা পর্যায়ে আশুরাকে কেন্দ্র করে এমন কিছু বিষয় প্রচলিত আছে, যা নির্ভরযোগ্য কোনো আলেমের সমর্থনযোগ্য নয়

সৃষ্টি ও জন্মসংক্রান্ত দাবি: এই দিনে হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি বা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম হয়েছে—এমন দাবির কোনো সহিহ হাদিস নেই। স্বাস্থ্যগত লোকজ বিশ্বাস: এই দিনে গোসল করলে রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বা চোখে সুরমা লাগালে জ্যোতি বাড়ে—এসব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার। বিশেষ খাবার: আশুরার দিনে নির্দিষ্টভাবে খিচুড়ি বা বিশেষ খাবার রান্না করা বা বিতরণ করাকে বাধ্যতামূলক বা সওয়াবের কাজ মনে করা ভুল। অশুভ দিন নয়: আশুরা কোনো অশুভ দিন নয়। ইসলামে কোনো দিনকে ‘অপয়া’ ভাবার সুযোগ নেই। কেয়ামতের গুঞ্জন: ১০ মহররম কেয়ামত হবে—এমন বিশ্বাসের সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

আশুরা ও কারবালার ঘটনা: ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক ঘটনা হলো ১০ মহররম প্রিয় নবী (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর শাহাদাতবরণ। তবে মনে রাখা জরুরি, কারবালার ঘটনার বহু আগে থেকেই আশুরার দিনটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা এই দিনেই ইমাম হোসেন (রা.)-কে শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। তাই আশুরার দিন শোকের মাতম বা বুক চাপড়ানো ইসলামের শিক্ষা নয়, বরং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাই এর মূল শিক্ষা।

আশুরার সঠিক আমল: পবিত্র এই দিনে ইসলামসম্মত ও প্রমাণিত আমলগুলো হলো:

১. মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে দুটি রোজা রাখা। ২. বেশি বেশি জিকির ও ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৩. সাধ্যমতো দান-সদকা করা। ৪. হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তির ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবনে আল্লাহর ওপর অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করা।

আশুরার দিনটিকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার কুসংস্কার বা বিদআত পরিহার করে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইবাদত করাই প্রকৃত মুমিনের কাজ।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন