রংপুরে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ণ
রংপুরে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু

আবু রায়হান, রংপুর ব্যুরো: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬ জনে। একই সঙ্গে রংপুর বিভাগে ল্যাব পরীক্ষায় এ পর্যন্ত ৬০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বেলা ১২টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকালপার্সন ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ বুধবার সকাল সাড়ে সাতটায় আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন আবু হুজাইফা নামের পাঁচ মাসের এক শিশু মারা গেছে। নিহত শিশুর বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সে গত ২৯ মে হামের উপসর্গ নিয়ে পঞ্চগড় হাসপাতাল থেকে রমেক-এ ভর্তি হয়েছিল।

এর আগে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া বাকি ৫ জন হলো— ঠাকুরগাঁও সদরের ৯ মাসের শিশু মনি আক্তার (মৃত্যু: ১৬ মে), নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১১ মাসের শিশু জুনাইদ, লালমনিরহাটের হারাটি গ্রামের ৯ মাসের শিশু হাসান, কুড়িগ্রামের উলিপুরের ২২ মাসের শিশু জাকির এবং লালমনিরহাট সদরের ৭ মাসের শিশু তানজিদ ইসলাম তামিম (মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, রমেক-এ প্রথম মৃত্যু)।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত বিভাগের ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬০ জনের হাম এবং ৬ জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ রমেক হাসপাতালেই ২৯ জন। বাকিদের মধ্যে নীলফামারীতে ১০, রংপুরে ৫, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ জন করে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, পঞ্চগড়ে ২ এবং লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ১ জন করে শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ১৬ জন হামের রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার৪০৩ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৭০ জন, যার মধ্যে ২২ জন রমেক হাসপাতালে ভর্তি।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী জানান, “হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সতর্ক আছি এবং আমাদের মাঠকর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। শিশুদের মাঝে উপসর্গ দেখা মাত্রই হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন