মাদারীপুরে ১০ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো
নাজমুল হাসান, মাদারীপুর: মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের শশিকর চৌমুহনী এলাকার একটি খালের ওপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সাঁকো থেকে নিচে পড়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় শশিকর চৌমুহনী খালের ওপর উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ের মানুষের যোগাযোগের জন্য উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কাঠ ও লোহার সমন্বয়ে একটি সেতু ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে একটি তীব্র ঝড় ও খালের প্রবল স্রোতে সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এরপর যোগাযোগের কোনো বিকল্প মাধ্যম না থাকায় গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। বর্তমানে এই নড়বড়ে সাঁকোটিই ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। মাদারীপুরের মস্তফাপুর থেকে গোপালগঞ্জের পয়সার হাট পর্যন্ত যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালের স্রোত বেড়ে গেলে সাঁকোটি মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না। প্রায়ই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা সেতু করে দেওয়ার বড় বড় আশ্বাস দেন, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেন না। বর্ষা এলে আমাদের ছেলেমেয়েরা ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না। আমরা দ্রুত এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
এ বিষয়ে নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার বলেন, "এই পথ দিয়ে প্রতিদিন ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এখন সবাই চরম ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন। আমি একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করে আসছি।"
যোগাযোগ করা হলে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, "শশীকর চৌমুহনীর সেতুটি বেশ আগে ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণের চলাচলে বড় ধরনের দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত সেতু নির্মাণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে (ইমার্জেন্সি মেসেজ) স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারসহ (চাহিদাপত্র) প্রয়োজনীয় তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "এই সেতুর প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। আশা করছি, আগামী অর্থবছরের শুরুতেই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।"
এআইএল/সকালবেলা
|