ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
অনলাইন ডেস্ক: সমগ্র বিশ্বজুড়ে অব্যাহত জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রভাবে মেগাসিটিগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ সময়ের তুলনায় গণপরিবহন ও কলকারখানা তুলনামূলক কম সচল থাকলেও রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী শীর্ষ সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ (IQAir)-এর শুক্রবারের (৯ অক্টোবর) সূচক অনুযায়ী, ১৭২ বায়ুমান স্কোর (AQI) নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ৫ম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বায়ুমণ্ডলের এই মানকে সকল স্তরের নাগরিকদের জন্য 'অস্বাস্থ্যকর' বলে ধরা হয়।
আইকিউএয়ারের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর। নগর রাষ্ট্রটির বায়ুমান স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২১৭, যা নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে পড়ে।
তালিকায় ২১০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর, ১৮৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর লাহোর এবং ১৭৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়। ১৭২ স্কোর নিয়ে হ্যানয়ের ঠিক পরপরই পঞ্চম স্থানে রয়েছে ঢাকা।
আইকিউএয়ারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০ হলে তা ‘সহনীয় বা মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা বিশেষ ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর (শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগী) জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে সার্বিকভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এছাড়া স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ এর ঘরে পৌঁছালে তাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ অতিক্রম করলে সেটিকে ভয়াবহ ‘দুর্যোগপূর্ণ’ অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশে বাতাস পরিমাপের ক্ষেত্রে মূলত ৫টি নির্দিষ্ট মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়—বাতাসে ভাসমান বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড ($NO_2$), কার্বন মনোক্সাইড ($CO$), সালফার ডাই অক্সাইড ($SO_2$) এবং ওজোন ($O_3$)। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাতাস যখন অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকে, তখন বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং দীর্ঘ সময় খোলা স্থানে শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।