কক্সবাজারে কার্ড পাচ্ছেন কৃষকরা, উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারে কার্ড পাচ্ছেন কৃষকরা, উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কৃষি খাতে সরকারের ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের একটি ব্লকে পাইলটিং প্রকল্প শুরু হচ্ছে। 

আগামী ১৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) দেশব্যাপী এই কর্মসূচি উদ্বোধনের দিন নিজ নিজ জেলার মন্ত্রীরা উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেবেন। কক্সবাজারের সন্তান ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ওই দিন টেকনাফে উপস্থিত থেকে প্রান্তিক তালিকাভুক্ত কৃষকদের হাতে এই ‘কৃষি কার্ড’ তুলে দেবেন বলে জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, টেকনাফের বাহারছড়া ব্লকের মোট ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক-কৃষাণী এই কার্ডের আওতায় আসছেন।

  • লিঙ্গভিত্তিক: পুরুষ ১,৪৬৩ জন এবং নারী ২৩৫ জন।

  • শ্রেণিভিত্তিক: শস্য চাষি ১,৬৪১ জন, মৎস্য ২ জন, খামারি ১০ জন, লবণ চাষি ২ জন।

  • আর্থিক অবস্থা: ভূমিহীন ১২৪ জন এবং প্রান্তিক ১,১৩৬ জনসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিরা এই তালিকায় রয়েছেন।

সুবিধাভোগী কৃষকরা সরকারি এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

কার্ডধারী কৃষকরা মূলত ১০ ধরনের সেবা ও সুবিধা পাবেন: ১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ। ২. সরাসরি সরকারি ভর্তুকি। ৩. সরকারি বিশেষ প্রণোদনা। ৪. সুলভ মূল্যে সেচ সুবিধা। ৫. সহজ শর্তে কৃষিঋণ। ৬. কৃষি বিমা সুবিধা। ৭. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ। ৮. আধুনিক কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। ৯. আবহাওয়ার আগাম তথ্য। ১০. রোগবালাই দমনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, বাহারছড়া ব্লকের পর পর্যায়ক্রমে জেলার সকল কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল এই ‘কৃষক কার্ড’। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে সরকার, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে দেশজুড়ে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন