নোয়াখালীতে যুবককে আগুনে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা

নোয়াখালীতে যুবককে আগুনে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা

মোঃ ইয়াছিন রুবেল, নোয়াখালী: নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় নিখোঁজের চারদিন পর মো. খোকন (৩২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত ও দগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত খোকন চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের হোসেন আলী পাটোয়ারী বাড়ির মো. ফারুক হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) রাত ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গত শনিবার (৪ এপ্রিল) পরিবারের পক্ষ থেকে চাটখিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের 'মন্ত্রী পোল' সংলগ্ন একটি ঝোপের মধ্যে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝোপের ভেতর থেকে অর্ধগলিত এবং আগুনে পোড়ানো অবস্থায় খোকনের দেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্বৃত্তরা খোকনকে অন্য কোথাও পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার পর লাশটি গুম করার উদ্দেশ্যে এই ঝোপের মধ্যে ফেলে গেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:

"লাশটি দেখে আগুনে পোড়ানো মনে হচ্ছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিক আলামতে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।"

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন