নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, পৃথক কমিটি গঠন

নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, পৃথক কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব দখল ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখা নিয়ে দুই পক্ষের পৃথক আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের কমিটিকে বৈধ প্রমাণ করতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সাংবাদিকদের এই কোন্দলে সচেতন মহলের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে আসলে কী এমন ‘মধু’ আছে, যার জন্য এই লড়াই?

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা শহরের উকিল পাড়ায় অবস্থিত এই প্রেসক্লাবটি গত কয়েক বছর ধরেই কতিপয় সংবাদকর্মীর কবজায় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে প্রতিপক্ষ বা ভিন্ন মতের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা অজুহাতে বহিষ্কারের খড়গ নামিয়ে আনা হয়। এমনকি মূলধারার প্রথম সারির পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে কাজ করা অন্তত ৩০ জন তরুণ সংবাদকর্মীকে সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগ রয়েছে। পরিবর্তে নিজেদের ভোটব্যাংক ভারী করতে অসাংবাদিক ও অনুগতদের সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

২০২৫ সালে সদস্যপদ বঞ্চিতরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রেসক্লাবের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা হয়েছিল। শর্ত ছিল বহিষ্কৃতদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং যোগ্যদের সদস্যপদ দেওয়া। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী কমিটি সেই শর্ত ভঙ্গ করে উল্টো প্রতিদ্বন্দ্বী সদস্যদের বহিষ্কার করলে সংকট নতুন রূপ নেয়।

বর্তমানে দুই পক্ষই পৃথক কমিটি ঘোষণা করেছে। গত ৩ মার্চ অ্যাডভোকেট শওকত ইলিয়াস কবিরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি প্রেসক্লাবে অবস্থান নেয়। এর পরপরই ২৯ মার্চ তারিখ দেখিয়ে প্রফেসর ওয়ালিউল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাল্টা একটি কমিটি প্রকাশ করে সদ্য বিলুপ্ত কমিটি।

স্থানীয়দের মতে, প্রেসক্লাবের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে তদবির, ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকায় এই পদ কেউ ছাড়তে চান না। এই স্বার্থের সংঘাতই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিকে বারবার সংকটে ফেলছে।

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির পক্ষের আহ্বায়ক প্রফেসর ওয়ালিউল ইসলাম জানান, আগামী শুক্রবার উভয় পক্ষ বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে, নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও বাংলা টিভি প্রতিনিধি আশরাফুল নয়ন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত দিনে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। নিজেদের দল ভারী করতে অসাংবাদিক তৈরি করা হচ্ছে, যা পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য অসম্মানজনক।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি জেনেছি এখানে সাংবাদিকদের ১১টি গ্রুপ আছে। নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হলে সমাধান কঠিন। সাবেক জেলা প্রশাসক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তবে সব পক্ষ চাইলে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য উদ্যোগ নিলে এর সমাধান সম্ভব।”

পেশাদার সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষায় এবং প্রেসক্লাবের এই অচলবস্থা কাটাতে একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জেলার সাধারণ সংবাদকর্মী ও নাগরিক সমাজ।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন