তেল না দেওয়ায় ফিলিং স্টেশনে হামলা, অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট

তেল না দেওয়ায় ফিলিং স্টেশনে হামলা, অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট

আহমেদ লিওন, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ড্রামে করে তেল নিতে আসা কালোবাজারিদের চাহিদা পূরণ না করায় একটি ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ফিলিং স্টেশনের মালিক সালমান মুন্সিসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে আজ সকাল থেকে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদী এলাকায় অবস্থিত 'সিসিবিএল ফিলিং স্টেশনে' এই হামলার ঘটনা ঘটে। ফিলিং স্টেশনের মালিক বাইজিদ মুন্সি জানান, বর্তমান সংকটের সময়ে তারা নিয়মিতভাবে বাস, মোটরসাইকেল ও কৃষকদের সেচ পাম্পে তেল সরবরাহ করে আসছিলেন। তবে স্থানীয় আব্দুর রহিম, তামিম, রাজু, আবদুল্লাহ ও আক্রামসহ ৮-১০ জনের একটি চক্র ড্রামে করে বিপুল পরিমাণ তেল দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ড্রামে তেল দিতে অস্বীকার করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক সালমান মুন্সি ও কর্মচারীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

হামলায় সালমান মুন্সিসহ তিন কর্মচারী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ফরিদপুর জেলা পাম্প মালিক সমিতির জরুরি সিদ্ধান্তে সুয়াদী ও পুখুরিয়া এলাকার দুটি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মালিক পক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে এবং পাম্প দুটি থেকে কোনো তেল সরবরাহ করা হবে না।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, "হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

হঠাৎ পাম্প দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন এবং স্থানীয় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন