মাত্র ১০০ টাকার জন্য আমতলীতে পোশাক শ্রমিক খুন!

মাত্র ১০০ টাকার জন্য আমতলীতে পোশাক শ্রমিক খুন!

পিএম সাজ্জাদ শরীফ, আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলী উপজেলায় ধানের কুড়া (খুদি) ক্রয়ের মাত্র ১০০ টাকাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত পোশাক শ্রমিক সজিব আকন (২০) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে সোমবার (৩০ মার্চ ) দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনে বাড়ি এসে এভাবে প্রাণ হারানোয় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বৃদ্ধ আয়নালী আকন প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদার কাছ থেকে ৭০০ টাকায় দুই মণ কুড়া ক্রয় করেন। কিন্তু সোনা মিয়া বাজারমূল্যের চেয়ে আরও ১০০ টাকা বেশি দাবি করেন। এই টাকা নিয়ে গত ৫ মার্চ আয়নালী আকনকে মারধর করেন সোনা মিয়া।

গত ২১ মার্চ (ঈদুল ফিতরের দিন) সকালে আয়নালী আকনের ছেলেরা তাঁদের বাবাকে মারধরের কারণ জানতে সোনা মিয়ার কাছে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী আয়নালী আকনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় সজিব আকনসহ পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।

আহতদের প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই রাতেই তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে মারা যান সজিব। সজিব ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং ঈদের আগের দিন (২০ মার্চ) বাড়িতে এসেছিলেন।

এই ঘটনায় গত ২২ মার্চ নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন আকন বাদী হয়ে সোনা মিয়া প্যাদাকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তবে গত ২৪ মার্চ মামলার ৮ জন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। সজিবের মৃত্যুর পর এখন এই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানা গেছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, "আসামিদের মধ্যে ৮ জন আদালত থেকে জামিনে আছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাঁদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।"

সজিবের ভগ্নিপতি মো. আশরাফুল ইসলাম জুয়েল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন