ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সক্রিয় রয়েছে ভারত। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও একের পর এক তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ নিরাপদে ভারতের বন্দরে পৌঁছাচ্ছে। সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছায় ভারতীয় পতাকাবাহী একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটির নাম জগ লাড়কি। এতে প্রায় ৮০ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আনা হয়েছে। এই তেল সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফুজাইরাহ বন্দর থেকে তা জাহাজে তোলা হয়েছিল। এর আগের দিন গুজরাটের দেবভূমি দ্বারকা জেলার ভাদিনার বন্দরে পৌঁছায় নন্দা দেবী নামের একটি গ্যাসবাহী জাহাজ। এতে ছিল ৪৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস। সোমবার মুন্দ্রা বন্দরে শিবালিক নামের আরেকটি গ্যাসবাহী জাহাজও ভিড়েছিল।
মুন্দ্রা বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা আদানি পোর্টস জানিয়েছে, জগ লাড়কি জাহাজটি আকারে অত্যন্ত বড়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৪ মিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিটার। এই জাহাজে বিপুল পরিমাণ তেল বহনের সক্ষমতা রয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এত বড় জাহাজকে নিরাপদে বন্দরে ভিড়ানো এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বন্দর দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মূল আস্থা হিসেবে কাজ করছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সংঘাতে এই পথ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ বাইরে থেকে আমদানি করে। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের অর্ধেক এবং গ্যাসের বড় অংশ বিদেশ থেকে আসে। আগে এই সরবরাহের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আনার চেষ্টা বাড়ানো হয়েছে। তবে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় শিল্পক্ষেত্রে প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি হোটেল ও রেস্তোরাঁর মতো বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও গ্যাসের জোগান কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। সূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ