বেলকুচিতে চুরির অপবাদে দুই যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম

বেলকুচিতে চুরির অপবাদে দুই যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুই যুবককে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) উপজেলার দৌলতপুর বাজার ও ধুলগাগড়াখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার এক যুবকের বাবা এবং অন্য এক যুবক নিজে বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বেলকুচি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ধুলগাগড়াখালী গ্রামের আব্দুল ওহাবের বাড়িতে একটি চুরির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার জেরে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে এনামুল হক (১৬) নামে এক কিশোরকে চোর সন্দেহে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে আজুগড়া বেরী বাঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাশেদুল ইসলাম ও মেহেরাফ আলীসহ কয়েকজন তাকে বেদম মারপিট করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চুরির দায় স্বীকার করতে বাধ্য করে। জীবন বাঁচাতে এনামুল প্রতিবেশী শিমুল হোসেনের নাম বলতে বাধ্য হয়, যা অভিযুক্তরা মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে রাখে। পরবর্তীতে শিমুলকে ধরার জন্য এনামুলকে মাইক্রোবাসে করে ঢাকাতেও নিয়ে যাওয়া হয় এবং ব্যর্থ হয়ে বিকেলে তাকে ধুলগাগড়াখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফেলে রেখে যায় তারা।

ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিমুল হোসেন ইফতারি কেনার জন্য দৌলতপুর বাজারে গেলে রাশেদুলের নেতৃত্বে একদল লোক তাকে মাইক্রোবাসে তুলে ধুলগাগড়াখালী ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে শিমুলের বাবা ইকবাল হোসেন সেখানে পৌঁছালে দেখতে পান, অভিযুক্তরা লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে তাঁর ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করছে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। এক পর্যায়ে শিমুলের মুখে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয় এবং হাতুড়ি দিয়ে বাম চোখে আঘাত করা হয়। শিমুল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

বেলকুচি থানার পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনুল হক জানিয়েছেন, এই বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় নিয়মিত আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন