পাকিস্তান ও আফগান সীমান্তে গোলাগুলি, বাড়ছে উত্তেজনা

পাকিস্তান ও আফগান সীমান্তে গোলাগুলি, বাড়ছে উত্তেজনা

মঙ্গলবার পাকিস্তান ও আফগান বাহিনীর মধ্যে সীমান্তে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে সংঘর্ষের সূত্রপাতের জন্য দোষারোপ করেছে। আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বিমান হামলার কয়েকদিন পর ইতিমধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবার ও রবিবার পাকিস্তানের হামলার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গত অক্টোবরে বড় সংঘর্ষের পর যে দুর্বল যুদ্ধবিরতি ছিল, সেটিও এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেন, আফগান তালেবান তোরখাম ও তিরাহ সীমান্ত এলাকায় বিনা উস্কানিতে গুলি চালানো শুরু করে। তিনি জানান, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত জবাব দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো উস্কানি হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তবে আফগান কর্মকর্তারা বলছেন, আগে পাকিস্তানি বাহিনী গুলি চালায়, এরপর আফগান সেনারা জবাব দেয়। নাঙ্গারহার প্রদেশের কর্মকর্তা জাবিহুল্লাহ নুরানি জানান, ঘটনাটি নাজিয়ান জেলার শাহকোট এলাকায় ঘটেছে। তিনি বলেন, এতে কোনো আফগান হতাহতের খবর নেই।

আফগান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাওলাভি ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, সীমান্তরক্ষীরা আচিন ও দুরবাবা জেলায় ডুরান্ড লাইনের কাছে টহল দিচ্ছিল। তখন তারা গুলির মুখে পড়ে এবং জবাব দেয়। তিনি বলেন, এটি প্রতিশোধ নয়, আত্মরক্ষার জন্য জবাব ছিল। ইসলামাবাদ জানায়, সপ্তাহান্তে পাকিস্তান পূর্ব আফগানিস্তানে টিটিপি ও ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এতে ৭০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের আফগান মিশন জানায়, তাদের কাছে খবর এসেছে যে নাঙ্গারহারে অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষ নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। তালেবান কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। তবে আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়টার্স এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, টিটিপি নেতারা আফগানিস্তানের ভেতর থেকে কাজ করেন। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: আরব নিউজ

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন