টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় পাওয়া ১ পয়েন্টই এখন পাকিস্তানের একমাত্র সম্বল। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইংল্যান্ডের কাছে নাটকীয় হারের পর সালমান আলি আগার দলের সেমিফাইনালের স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়। বাস্তবতা মেনে নিয়ে তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছেন, ভাগ্য এখন আর তাদের নিজেদের হাতে নেই।
সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৬৪ রান তোলে পাকিস্তান। লক্ষ্য তাড়ায় অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের দারুণ এক সেঞ্চুরিতে ইংলিশরা জয়ের সুবাস পেতে থাকে। জয় পেতে যখন বলের চেয়েও প্রয়োজনীয় রান কম, তখন নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে পরপর উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত ৫ বল এবং ২ উইকেট হাতে রেখে জিতে ব্রুকের দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
দুই ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের পয়েন্ট স্রেফ ১, কিউইদের বিপক্ষে পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে পাওয়া সেটাই সম্বল তাদের। বাকি আছে কেবল শ্রীলঙ্কা ম্যাচ, সেটি জিতলেও বাকিদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে সালমান-শাহিনদের। সবমিলিয়ে সেমিতে যাওয়ার আশাটা তাদের সংকীর্ণ হয়ে আসছে। সেই সমীকরণ নিয়ে শাহিন আফ্রিদি ম্যাচ শেষে জানান, ‘আমরা জানি ভাগ্য আমাদের হাতে নেই। কিন্তু শনিবার নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে হবে এবং এরপর আশায় থাকতে হবে যেন অন্যদের ফল পক্ষে আসে। এটি আদর্শ কিছু নয়, কিন্তু এমনই পরিস্থিতি।’
এরপর ব্যাটিংয়ে নিজেদের বড় জুটি গড়তে না পারাকেও হারের জন্য দায়ী মনে করেন পাকিস্তানি এই তারকা পেসার, ‘আমার মতে এই ধরনের উইকেটে আপনার জুটি এবং একজন সেট ব্যাটসম্যান দরকার, যে মিডল ওভারজুড়ে খেলতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা পরপর উইকেট হারিয়েছি, ফলে আমরা ১৮০-১৯০ স্কোর করতে পারিনি। ইংল্যান্ড যখন ব্যাট করেছে, হ্যারি ব্রুক ক্রিজে টিকেছিল এবং পাশাপাশি জুটি গড়ে স্ট্রাইকও বাড়িয়েছে। আমরা জুটি গড়ার সেই সুযোগটি নষ্ট করেছি। জুটি গড়া মানে কেউ একজন ক্রিজে থেকে সিঙ্গেল এবং দুই রান নিয়ে রান সচল রাখবে।’
‘টি-টোয়েন্টি ইনিংসে আপনার ওভারপ্রতি ৮-৯ রান লাগবে, যদি পাশাপাশি জুটি গড়তে চান। মাঝের দিকে আদিল রশিদ খুব ভালো বল করেছে, তাই তাকেও কৃতিত্ব দিতে হবে’, আরও যোগ করেন শাহিন। একইসঙ্গে ব্রুকের ইনিংসেরও প্রশংসা করেছেন তিনি, ‘বিশ্বমানের ইনিংস। আমার মতে এটি তার জীবনে সেরা ইনিংস হতে যাচ্ছে। আমাদের কাছ থেকে ম্যাচ কেড়ে নিয়ে ব্যাটিং করা এই পিচে সহজ ছিল না। ব্রুক দারুণ সব ক্রিকেটিং শট খেলেছে, তাই সে হ্যান্ডশেক ও প্রশংসা প্রাপ্য ছিল।’
ব্রুক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন ৫০ বলে, ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১০ চার ও ৪ ছক্কায়। পরের বলেই শাহিনের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই ইংলিশ অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে তাকে অভিবাদন জানান পাকিস্তানি তারকা। ব্রুক এমন ইনিংস না খেললে হয়তো ম্যাচের নায়কও হতে পারতেন শাহিন। শুরুর দিকে তিনিই মূলত ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। ব্রুককে আউট করার পর তার বোলিং ফিগার ৩০ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট।
আই.এ/সকালবেলা