ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ তাঁর ডান চোখ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ছেলের চোখ হারানোর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মা রাবেয়া বেওয়া (৬৫) মারা গেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে দুই জামায়াত সমর্থককে আটকে রাখে বিএনপি কর্মীরা। খবর পেয়ে জামায়াত-শিবিরের কয়েকশ নেতাকর্মী মোটরসাইকেলযোগে এসে মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাসুদ রানা ও তাঁর ভাই রবিউল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে মাসুদ রানার ডান চোখ মারাত্মকভাবে জখম হয়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাসুদ রানার চোখ নষ্ট হওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছালে তাঁর মা রাবেয়া বেওয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার রাতে গ্রামে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এই নৃশংতা ঘটিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ দাবি করেন, তাঁদের কর্মীদের আগে মারধর ও আটকে রাখা হয়েছিল।
নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ