কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত ঈদগাঁও খালের বালি উত্তোলন চললেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা প্রশাসন কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে বালি উত্তোলন সরঞ্জাম জব্দ করে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে নানান পদক্ষেপ নিয়েও থামানো যাচ্ছে না বালি উত্তোলন। প্রতিবারই অভিযান পরবর্তীতে বালির স্তুপ থেকে বালি সরানোর জন্যে ইজারা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বালি সরানোর ইজারাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে ! বালি সরানোর বৈধ ইজারা নিয়ে চলে অবৈধ বালি উত্তোলন।
সরেজমিন রিপোর্ট- উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়ার রাজঘাট এলাকায় ঈদগাঁও নদী থেকে ড্রেজার ও সেলো মেশিনের মাধ্যমে রাত-দিন বালি উত্তোলন করছে ইজারাদার নুরুল হুদা কোম্পানির ও ইসলামাবাদ ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট। বালিভর্তি মিনি ট্রাক চলাচলের ফলে গ্রামীণ সড়ের বেহাল দশা, সম্প্রতি বালির গর্তে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিবেশবিধ্বংসী সিন্ডিকেটটি প্রভাবশালী হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ম্যানেজ করে অবৈধ এ কার্যক্রম করে আসছে বলেও জানা যায়। গত ডিসেম্বরে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গজালিয়া বালি মহালে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ হাজার ঘনফুট জব্দ ও নিলাম দেওয়া হয়েছিলো। বলি সরানোর জন্যে সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়ছিলো। নির্দিষ্ট সময়ে পরেও বালি সরানো সম্ভব হয়নি বলে ফের সময় বাড়ানো হয়। অথচ প্রতিদিন রাত বালি উত্তোলন হয়েছে। গত একমাসে আনুমানিক ২-৩ লাখ ঘনফুট বালি অবৈধভাবে উত্তোলন ও সরবরাহ করে নিলামকারী সিন্ডিকেট।
স্থানীয়দের অভিযোগ- প্রশাসনের উদাসীনতায় এই সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে তা ডাম্পার যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। ফলে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত রাস্তাঘাট দ্রুত নষ্ট হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
ইজারাদার নুরুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান- ইজারার সময় বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি জানেন না। তিনি শুধুই নিলাম নিয়েছেন। বাকি সব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যানের।
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান- গজালিয়ার বালি মহালের ইজারার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে জানি। বলি সরানোর বিষয়ে ইজারাদার নুরুল হুদার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
রিজার্ভ বনভূমিতে বালি উত্তোলন হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেন রাজঘাট বনবিট কর্মকর্তা শাহ আলম। ঈদগাঁও খাল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে বনবিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান বলেন- জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্যে অভিযান কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। ইজারার শর্তাবলির বাইরে গিয়ে বালি সরানো এবং অবৈধভাবে খালের বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্যে এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।