রিপন হালদার, বাগেরহাট জেলা বিশেষ প্রতিনিধি: আইনি জটিলতার কারণে মোংলা বন্দরে পানামা পতাকাবাহী একটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ‘এম ভি এইচটিপি আম্বার’ নামের ওই জাহাজটি সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিংয়ের দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আটক করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি বন্দরের বেসক্রিক-৪ নম্বর বয়ায় নোঙর করা অবস্থায় আটক থাকলেও সেখান থেকে নিয়মিত পণ্য খালাস কার্যক্রম সচল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হারবার বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ডিসেম্বর ভারতের পারাদ্বীপ বন্দর থেকে ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন সার নিয়ে জাহাজটি মোংলা বন্দরে এসে নোঙর করে। জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট কসমস শিপিং লাইন্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম জানান, যশোরের নওয়াপাড়াভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং এই সার আমদানি করে। তবে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না হওয়ায় জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অ্যাডমিরালটি স্যুট (সামুদ্রিক আইন) ১/২০২৬ অধীনে উচ্চ আদালতে মামলা করেন আমদানিকারক। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জানুয়ারি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জাহাজটি আটক রাখার নির্দেশনা পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিংয়ের পরিচালক সোহাগ আহমেদ খাঁন জানান, জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর প্রথম দিন প্রায় এক হাজার মেট্রিকটন সার খালাস করা হলেও পরবর্তী টানা ১২ দিন জাহাজ কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ ছাড়াই পণ্য খালাস বন্ধ রাখে। মূলত জাহাজ ভাড়াকারি প্রতিষ্ঠান মুরালি ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জাহাজ কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর ফলে বাজারে সময়মতো সার সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং লাইটার জাহাজ ভাড়া ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনা বাবদ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তারা গত ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন।
বর্তমানে জাহাজটি থেকে পুনরায় সার খালাস শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি। তবে ১২ দিন পণ্য খালাস বন্ধ থাকার ফলে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, জাহাজ কর্তৃপক্ষ সেই ক্ষতিপূরণ প্রদান করলে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা বহনকারী একটি বিদেশি জাহাজ আইনি জটিলতায় মোংলা বন্দরে আটক ছিল। মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যবসায়িক বিরোধ বা আইনি মারপ্যাঁচে বিদেশি জাহাজ আটক হওয়ার ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড ও আদালত সমন্বিতভাবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে।
আর.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন