ইবনে জারির
প্রকাশ : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

রাজনীতিতে আসার আগেই স্বামী হারান খালেদা জিয়া: দুই হাজার টাকায় চালাতেন সংসার

রাজনীতিতে আসার আগেই স্বামী হারান খালেদা জিয়া: দুই হাজার টাকায় চালাতেন সংসার

মুহসিন মোল্লা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি পুরনো ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ১৯৮১ সালের জুন মাসে ধারণ করা একটি সাক্ষাৎকারের অংশ। সেখানে এক সাদাসিধে নারীকে বলতে শোনা যায়, মাত্র দুই হাজার টাকায় তিনি কীভাবে সংসার চালাতেন। সেই নারী আর কেউ নন, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ‘আপসহীন’ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

রাজনীতিতে পা রাখার আগেই স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া ছিলেন নিতান্তই একজন সংসারী নারী। অথচ সেখান থেকেই শুরু হয় তার এক কণ্টকাকীর্ণ যাত্রা। যে নারীকে একসময় সংসারের খরচ আর ছেলেদের পোশাক কেনা নিয়ে হিসাব করতে হতো, ’৮২ সালে রাজনীতিতে পা রেখেই তাকে শিখতে হয়েছে দাবার চালের মতো জটিল রাজনৈতিক হিসাব।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে: ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর সময় বিএনপি ও দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। উপরাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার তখন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। কিন্তু ১৯৮২ সালের মার্চেই সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে সামরিক আইন জারি করেন। ঠিক এই ক্রান্তিকালে, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। শুরুতে কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেই তাকে দেখা যেত।

দলের ভাঙন ও নেতৃত্ব গ্রহণ: জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই দল ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ১৯৮৩ সালে শামসুল হুদা চৌধুরী ও এম এ মতিন বিএনপি থেকে বেরিয়ে পাল্টা কমিটি করেন এবং খালেদা জিয়াকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। কিন্তু তৃণমূলের সমর্থনে টিকে যান খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালের ১ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার্টির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

এরপর ১৯৮৫ ও ’৮৮ সালে শাহ আজিজুর রহমান, মওদুদ আহমদ ও কে এম ওবায়দুর রহমানের মতো নেতারা দল ভাঙার চেষ্টা করলে খালেদা জিয়া কঠোর হাতে তা দমন করেন এবং দলের হাল শক্ত করে ধরেন।

আপসহীন নেত্রীর উত্থান: স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন’ খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগসহ অন্য দলগুলো অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়, তখনো খালেদা জিয়া এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তার এই দৃঢ়তাই তাকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একক ও প্রধান নেতায় পরিণত করে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’র মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, স্বামীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার গ্রহণের পর সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া তার আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছিলেন, যা তার একনিষ্ঠ সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি করে।

বিজয় ও প্রধানমন্ত্রীত্ব: টানা ৯ বছরের আপসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এরশাদের পতন ঘটে। এরপর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয়লাভ করে।

 

মাত্র দুই হাজার টাকায় সংসার চালানো সেই সাধারণ গৃহবধূটিই হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসরাইলি হামলায় দুই শিশুসহ গাজায় নিহত আরও ৭ ফিলিস্তিনি

1

আবাসিক হোটেল থেকে নারী পর্যটকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

2

বিএনপির জন্য পরিবার 'ত্যাগ', ধানের শীষ পেলেন সেই শ্রাবণ

3

নাটোরে বোনের বিপক্ষে ভাইয়ের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন

4

টেকনাফ সীমান্তে গোলাগুলি: নাফ নদীতে জেলে গুলিবিদ্ধ, আতঙ্কে ৮

5

৪৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের ফল প্রকাশ

6

আশরাফুল হত্যা: র‌্যাব-পুলিশের দুই রকম তথ্য

7

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার জেলজীবন

8

উপকূলের শীতার্ত মানুষের গায়ে উষ্ণতার ছোঁয়া

9

ট্রায়ালের কথা বলে গাড়ি নিয়ে উধাও যুবদল নেতা দল থেকে বহিষ্কার

10

সিসিইউতে খালেদা জিয়া

11

বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, যা বললেন ডাকসু নেত্রী রাফিয়া

12

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ৯ শিশুসহ নিহত ৫১

13

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হলেন জোহরান মামদানি

14

মালয়েশিয়ায় ১৮৪ অবৈধ অভিবাসী আটক, আছে বাংলাদেশিও

15

প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে ১৩১ আপিল

16

চার বিয়ে নিয়ে বিপাকে কপিল

17

আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে আইনজীবী ফজলুর রহমানকে অব্যাহতি

18

মামুনুল হকের পছন্দের আসনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি

19

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশের দাবিতে সাত কলেজের অ

20
সর্বশেষ সব খবর