জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র ফ্রান্স-ইতালি-বেলজিয়াম-পর্তুগাল

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র ফ্রান্স-ইতালি-বেলজিয়াম-পর্তুগাল

অনলাইন ডেস্ক: জীবনযাত্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় বৃদ্ধি, নিম্ন মজুরি, তীব্র আবাসনসংকট এবং ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে ইউরোপের চার প্রধান দেশ—ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) এসব দেশে অনুষ্ঠিত পৃথক বিক্ষোভ ও পদযাত্রায় অংশ নেন লাখো বিক্ষুব্ধ নাগরিক।

আন্দোলন দমনে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। ফ্রান্স ও ইতালির বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নীতিনির্ধারকদের ওপর নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করেছে।

শনিবার ফ্রান্সে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম উত্তাল ও ধ্বংসাত্মক বিক্ষোভের দিন পার হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ রাজপথে নামেন। প্যারিস, মার্সেই, নিস, লিমোজ, লিল ও তুলুজসহ বিভিন্ন প্রধান শহরে উগ্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা বিলাসবহুল শপিংমল, ব্যাংক ও সরকারি ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

লিমোজ শহরে মুখোশধারীদের দেওয়া আগুনে ১৪০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক নগর ভবন (সিটি হল) সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানান, সহিংসতায় অন্তত ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং সারাদেশে ১,২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অপরাধীদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বেলজিয়াম: রাজধানী ব্রাসেলস ও পূর্বাঞ্চলীয় লিয়েজে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ লক্ষ্য করে পাথর ও পটকা ছুড়লে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ।পর্তুগাল: রাজধানী লিসবনে ২০১৭ সালের পর থেকে বাড়ির দাম ও বাস ভাড়া দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ বিশাল মিছিল বের করেন।ইতালি: মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও যুদ্ধের প্রতিবাদে মিছিলকালে সংক্ষুব্ধরা ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘাত জড়ায়। ঘটনায় একাধিক পুলিশ আহত হন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কসহ অন্তত ৫০ জনকে আটক করা হয়। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা জানান।

প্যারিসের বিখ্যাত এইচইসি বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক আলবের্তো আলেমান্নো সতর্ক করে জানান, শিক্ষায় অর্থায়নের অভাব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এসব ভিন্নমাত্রার বিক্ষোভকে একই সূত্রে গেঁথেছে। জার্মানি, গ্রিস ও অস্ট্রিয়াতেও অসন্তোষের প্রাথমিক লক্ষণ স্পষ্ট। সামনেই স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় এই গণঅসন্তোষ সমগ্র ইউরোপীয় রাজনীতির মানচিত্রকে বড় ধরনের নাড়া দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।