ভারতে স্ত্রী ও ২ পুরোহিতকে গুলি করে হত্যা, পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত

প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ভারতে স্ত্রী ও ২ পুরোহিতকে গুলি করে হত্যা, পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলায় পারিবারিক বিবাদের জেরে স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করে হত্যার পর নিজের তিন সন্তানকে ঘরের ভেতর জিম্মি করার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ প্রায় সাত ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর ও যৌথ পুলিশি অভিযান শেষে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি গোলাগুলিতে অভিযুক্ত অরবিন্দ সিং নিহত হয়েছেন।

অভিযুক্তের ছোড়া গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে তাঁর এক শিশু ছেলেও।

পুলিশ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, নিহত অরবিন্দ সিং দীর্ঘদিন ধরে নানা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর মানসিক অবস্থার উন্নতি এবং পারিবারিক কল্যাণের আশায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাড়িতে এক বিশেষ পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী ববিতা সিং (৩২)। এতে পাঁচজন স্থানীয় পুরোহিত অংশ নেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে অরবিন্দ বাড়ি ফিরে এই ধর্মীয় আয়োজনের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর স্ত্রী ববিতা এবং দুই পুরোহিত মহেন্দ্র পাঠক (৬০) ও অখিলেশ মিশ্র (৫০) প্রাণ হারান। জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে তড়িঘড়ি পালিয়ে যান অপর তিন পুরোহিত।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরপরই ঘাতক অরবিন্দ নিজের তিন সন্তানকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে জিম্মি বানান। খবর পেয়ে আজমগড় জেলা পুলিশ ও স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনটি ঘেরাও করে ফেলে।

বারাণসী জোনের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) নবীন অরোরা জানান, পুলিশ বারংবার মাইকে তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও অরবিন্দ ভেতর থেকে পুলিশ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকেন। শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। অরবিন্দ আবার গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে তিন সন্তানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আজমগড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) ড. অনিল কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অরবিন্দ এবং তাঁর শিশু পুত্র—উভয়েরই মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারের পূর্বেই অরবিন্দ নিজের সন্তানকে গুলি করেছিলেন। বাকি দুই কন্যাসন্তান মারাত্মক মানসিক আঘাত পেলেও বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের অধীনে এনেছে।

মন্তব্য করুন