কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

প্রকাশ: শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ণ
কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। (ছবি: সংগৃহীত)

অনলাইন ডেস্ক: দেশের বিপুল তরুণ ও মানবসম্পদকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে গতানুগতিক সনদসর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সরকার কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেবল প্রচলিত ডিগ্রি বা তত্ত্বীয় শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে দেশের বিশাল বেকার ও তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব নয়। সে জন্য আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শ্রমবাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, দেশে কারিগরি শিক্ষার পরিধি ও সুযোগ আরও প্রসারিত করার অংশ হিসেবে সরকার নতুন করে চারটি সর্বাধুনিক ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে। এটি দেশের টেকনিক্যাল শিক্ষার প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে।

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণা করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মৃতি কোনোদিন মুছে ফেলা যাবে না। যারা দেশের জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের অবদানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে স্মারক হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হবে।” এ সময় তিনি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিবহন সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত যৌক্তিক প্রস্তাবনা পেশ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে 'মায়ের ডাক'-এর প্রধান সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা তুলি বলেন, “একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে দলীয়করণের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো আপস হতে পারে না।”

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্র রাজনীতি নিয়ে একাধিক মতামত থাকতে পারে, তবে জুলাই আন্দোলনের সর্বজনীন চেতনা নিয়ে গোটা জাতির মাঝে কোনো দ্বিমত নেই।” অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদ ও আহতদের স্বজনেরা তাঁদের হৃদয়বিদারক স্মৃতিকথা তুলে ধরেন।

মন্তব্য করুন