বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী অগ্রহায়নের মাহফিল মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেবে চরমোনাই-এর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে আজ শনিবার সকাল ৯টায় শেষ হয়েছে।
পীর সাহেব চরমোনাই আখেরি মোনাজাতে দেশ, মানবতা, ইসলাম ও দেশের মানুষের শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামবিরোধী, মানবতাবিরোধী অপশক্তির হেদায়াতেরও দোয়া করেন। মুমিন মুসলমানদের ঐক্যের আহ্বানেরও দোয়া করা হয়। এ সময় পুরো মাঠ আমিন আমিন রবে মুখরিত হয়।
চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে গত ২৬ নভেম্বর বুধবার বাদ জোহর শুরু হয় এ মাহফিল। তিনদিন ব্যাপী মাহফিলে তিনি ৫টি বয়ান পেশ করেন এবং নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ২টি বয়ান পেশ করেন।
আখেরি মোনাজাতের আগে দেয়া হেদায়েতি বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন মানুষের মধ্যে মানবতা থাকে না; বিধায় তারা যে কোনো অপরাধে জড়িয়ে যায়।
সুতরাং আমাদের সবার মধ্যে আল্লাহর ভয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পূর্ণ আনুগত্য থাকতে হবে। আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মনোনীত দ্বীন ছাড়া অন্য কোনো তন্ত্রমন্ত্র কখনোই গ্রহণ করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন পীর সাহেব চরমোনাই।
তিনি আরও বলেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদর্শ ছাড়া অন্য আদর্শ গ্রহণ করে কিংবা অন্য আদর্শের দিকে লোকদের আহ্বান করে, নিশ্চয়ই তারা পথভ্রষ্ট।’
পীর সাহেব চরমোনাই সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এখানে দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আসার প্রয়োজন নেই। যদি এমন কেউ এসে থাকেন তবে নিয়ত পরিবর্তন করে আত্মশুদ্ধির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। তিনি মনে করিয়ে দেন, দুনিয়ার মোহ-ই সকল অন্যায়ের কারণ।
চরমোনাই মাদরাসার মূল মাঠসহ পাশের আরেকটি মাঠ নিয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক এই মাহফিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, যারা চরমোনাইতে নতুন এসেছেন, তারা দুনিয়ার ধ্যান-খেয়াল বিদায় করে দিয়ে আখেরাতের খেয়াল-ধ্যান অন্তরে জায়গা দেন। দিল থেকে বড়ত্ব এবং আমিত্ব ভাব বের করে দিয়ে আল্লাহর নির্দেশিত রাস্তায় নিজেকে বিলীন করে দিতে হবে। তিনি সদা-সর্বদা আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে দিলকে তরতাজা রেখে আল্লাহর ওলী হয়ে চরমোনাই থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, "ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় জীবনকে ইসলামের আলোকে পরিচালিত করলেই সত্যিকারের মুক্তি আসবে।"
মাহফিল শেষে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে আগত আমজনতা। এর আগে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ মাহফিল শুরু হয়।
মন্তব্য করুন