বলিউড অভিনেতার ভাগ্য নির্ধারণ আজ
বিনোদন ডেস্ক: পর্দার সামনে তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকদের হাসির রোল। তবে বাস্তব জীবনে গত কয়েক বছর ধরে আইনি টানাপোড়েনে হেসেই দিন কাটছে না বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদবের। প্রায় ৯ কোটি রুপির একটি দীর্ঘকালীন চেক বাউন্স মামলায় আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট। এই রায় শোনার জন্য এবং আদালতের মুখোমুখি হতে ইতোমধ্যে অভিনেতা রাজপাল যাদব সশরীরে দিল্লি হাইকোর্টের এজলাসে এসে উপস্থিত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-র আদালতের সর্বশেষ কার্যতালিকা (Cause List) সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আদালতের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, দিল্লি হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় পাঠ করবেন। এর আগে গত ২ এপ্রিল এই মামলায় উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতের মধ্যস্থতায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতার (Settlement) চেষ্টা করা হলেও তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এরপর আদালত রায়ের বিষয়টি মুলতবি (Reserved) রেখেছিলেন।
পূর্ববর্তী ওই শুনানিতে রাজপাল যাদব বাদীপক্ষের দেওয়া সমঝোতার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতের সামনে এক আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত কাতর কণ্ঠে আদালতকে জানান, এই একটি মাত্র মামলার কারণে তিনি গত কয়েক বছরে অপূরণীয় মানসিক ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে নিজের মূল্যবান সম্পত্তি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে এবং তিনি ইতোমধ্যে দাবিকৃত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য বড় অংশ বাদীপক্ষকে পরিশোধও করেছেন।
অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবি অবনীত সিং সিক্কা আদালতে অভিনেতার এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, রাজপাল যাদব পূর্বেই নিজের আইনি অপরাধ ও দণ্ড মেনে নিয়েছেন। ফলে এখন এসে নতুন করে কোনো আর্থিক দায় বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া থেকে তাঁর সরে যাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আরও একটি বড় পয়েন্ট উত্থাপন করে বলেন, রাজপাল যাদবের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালে যে বিশেষ রিভিশন আবেদনটি করা হয়েছিল, তা নির্ধারিত আইনি সময়সীমা পার হওয়ার প্রায় ১ হাজার ৮৯৪ দিন পর আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এত দীর্ঘ বছর বিলম্ব করার পেছনে অভিনেতার আইনি দল আদালতের কাছে কোনো সন্তোষজনক বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাও দিতে পারেনি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সহজে নিষ্পত্তির জন্য আদালত বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নিয়েছিল। একপর্যায়ে মূল ৯ কোটি রুপির দাবি থেকে নেমে এসে বাদীপক্ষ মাত্র ছয় কোটি রুপিতে চূড়ান্ত আপস বা সমঝোতা করতে রাজি হয়েছিল, কিন্তু রাজপাল যাদব অজ্ঞাত কারণে সেই বড় ছাড়ের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে আদালত স্বউদ্যোগে তিন কোটি রুপি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোগত সময়সীমার মধ্যে পরিশোধের সুবর্ণ সুযোগ দিলেও, অভিনেতার পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সমাধান আসেনি।
বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও তা হেলায় হারানোর কারণে শুনানির একপর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা। তিনি রাজপাল যাদবের আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “বিচারক আপনাদের সঙ্গে বা সেলিব্রিটি বলে অত্যন্ত ভদ্র আচরণ করছেন, এর অর্থ এই নয় যে বিচারককে আপনারা দুর্বল ভাববেন। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।” আজ দুপুরের পর এই কড়া বিচারপতির কলমেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে রাজপাল যাদবের ভবিষ্যৎ।
|