রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) র্যাগিংয়ের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার দায়ে তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত ৯ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘র্যাগিং ও যৌন নিপীড়নের বিষয়ে বেরোবি প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই।
ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ২৪ ঘণ্টার নোটিশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শৃঙ্খলা কমিটির মতামতের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়।’
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ১২ জন শিক্ষার্থী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে র্যাগিংয়ে জড়িত ছিলেন। সে অনুযায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রাফি আহমেদকে দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার ও আজিজুল হাকিমকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে, পরোক্ষভাবে জড়িত নয় শিক্ষার্থী-মনিরুজ্জামান, গোলাম মোর্শেদ তামি, মেঘনাথ রায়, মাসুদ রানা, সাইদুর রহমান শাকিল, সুজন মিয়া, আকরাম আলি, ফাহিম ইসলাম ও ফরাদ হোসেনকে সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ছাদে বাংলা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে নেন।
সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের শিকার হন ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দীন ইসলাম। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানায়। অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় অনেকেই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, র্যাগিং নির্মূলে তাঁরা আরো কঠোর অবস্থান নেবেন। ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।
উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কেউ র্যাগিংয়ে জড়িত হলে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন