লিংক নয়, গুগল সার্চ এখন নিজেই দেবে সরাসরি উত্তর

প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ণ
লিংক নয়, গুগল সার্চ এখন নিজেই দেবে সরাসরি উত্তর

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন প্ল্যাটফর্ম গুগল তাদের প্রথাগত সার্চ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এতদিন ধরে গুগলে কোনো তথ্য খুঁজলে সাধারণত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক বা তালিকা প্রদর্শন করা হতো। তবে সেই চেনা রূপ বদলে এখন থেকে সার্চের জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সরাসরি উত্তর, মানুষের মতো কথোপকথনের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রতিটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা বা ইন্টারফেস দেখাবে গুগল।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক প্রযুক্তি সম্মেলনে (গুগল আই/ও) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত ২৫ বছরের ইতিহাসে তাদের তৈরি সার্চ ব্যবস্থায় এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও যুগান্তকারী পরিবর্তন।

নতুন এই আধুনিক ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা যেকোনো বিষয়ে অনেক বড় বা জটিল প্রশ্ন লিখে সার্চ করতে পারবেন। গুগল তখন ব্যবহারকারীকে শুধু বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক ধরিয়ে দিয়ে খালাস হবে না, বরং নিজেই ইন্টারনেট থেকে সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে নিখুঁত একটি উত্তর তৈরি করে দেবে। এখানেই শেষ নয়, প্রয়োজনে ব্যবহারকারী একই বিষয়ে গুগলের সাথে চ্যাটিংয়ের মতো ধারাবাহিক বা সম্পূরক প্রশ্নও করতে পারবেন।

গুগল সার্চের এই নতুন সংস্করণে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ‘তথ্য সহকারী’ (এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট) থাকবে, যা ব্যবহারকারীর পক্ষ হয়ে ইন্টারনেটের বিশাল দুনিয়ায় নির্দিষ্ট তথ্যের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে গুগল জানিয়েছে, কোনো ব্যবহারকারী যদি নির্দিষ্ট বাজারের পরিস্থিতি বা কোনো বিষয়ের চলমান পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে চান, তবে তিনি এই সহকারীকে দায়িত্ব দিয়ে রাখতে পারবেন। পরবর্তীতে ওই বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট পাওয়া গেলে এআই সহকারী নিজে থেকেই ব্যবহারকারীকে তা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে।

আরও একটি আকর্ষণীয় সুবিধায় ব্যবহারকারীরা এখন নিজেদের প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট আকারের কাস্টমাইজড সেবা বা ব্যক্তিগত অ্যাপ তৈরি করে নিতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ—দৈনন্দিন খাবারের তালিকা (ডায়েট চার্ট), জিম বা ব্যায়ামের পরিকল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত সময়সূচির (শিডিউলিং) মতো জটিল কাজেও গুগলের এই নতুন প্রযুক্তিকে অনায়াসে ব্যবহার করা যাবে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা স্পষ্ট করে বলছেন, গুগলের এই নতুন সার্চ অ্যালগরিদমের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইটের ওপর। কারণ আগে ব্যবহারকারীরা যেকোনো ছোট-বড় তথ্য জানতে গুগলের লিংকের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতেন (যা সাইটগুলোর ট্রাফিক বা ভিজিটর বাড়াত)। এখন গুগল নিজেই সার্চ রেজাল্ট পেজে অনেক তথ্যের সরাসরি উত্তর দেখিয়ে দিলে ব্যবহারকারীদের আর লিংকে ক্লিক করে ভেতরে ঢোকার প্রয়োজন পড়বে না। ফলে বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইটগুলোর ভিজিটর বা রিডার ব্যাপক হারে কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে শুধু গুগলের সার্চের (এসইও) জন্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সাধারণ মানের কনটেন্টে আগের মতো ভিউ বা সুবিধা পাওয়া যাবে না। বরং ইন্টারনেটে টিকে থাকতে হলে মৌলিক সংবাদ, স্কুপ, বিশ্বাসযোগ্য এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য, নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ভিডিওভিত্তিক কনটেন্টের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি বিশাল অংশ এখনো গুগল সার্চ এবং গুগল ডিসকভার থেকে আসা লিংকের দর্শকের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে নতুন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির যুগে দেশীয় গণমাধ্যমগুলোকে টিকে থাকতে হলে সার্চ ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব স্থায়ী পাঠকগোষ্ঠী (ডিরেক্ট ট্রাফিক) তৈরি করা, কনটেন্টের গুণগত মান উন্নত করা এবং সরাসরি পাঠকদের সাথে বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন