দিশেহারা ইরান: আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য আর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ধুঁকছে অর্থনীতি

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ণ
দিশেহারা ইরান: আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য আর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ধুঁকছে অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভয়াবহ এক অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের আবর্তে নিমজ্জিত হয়েছে ইরান। একদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নৌ অবরোধ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা ও রেকর্ড মূল্যস্ফীতিতে দেশটির ৯ কোটিরও বেশি মানুষ এখন দিশেহারা। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের এই করুণ অর্থনৈতিক চিত্র ফুটে উঠেছে।

ইরানের জাতীয় মুদ্রা 'রিয়াল' খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার রিয়াল। মুদ্রার এই চরম অবমূল্যায়নের ফলে বাজারে লেনদেন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ থেকে শুরু করে গাড়ি ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

 তেহরানের বাজারে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স  বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২,৭৫০ ডলারে (৫০০ কোটি রিয়াল), যা যুক্তরাষ্ট্রে এর মূল দামের দ্বিগুণেরও বেশি। দেশীয় পিউজো ২০৬ গাড়ির দাম পৌঁছেছে ৩০০ কোটি রিয়ালে। আমদানিকৃত গাড়ির দাম পার্শ্ববর্তী আরব আমিরাতের বাজারের চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই পরিস্থিতির জন্য ‘মনস্তাত্ত্বিক’ কারণ ও বিক্রেতাদের কারসাজিকে দায়ী করলেও বিশেষজ্ঞরা একে কাঠামোগত সংকট বলছেন।

 ইরানে বর্তমানে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১৭ কোটি রিয়ালেরও কম, যা মার্কিন ডলারে মাত্র ৯২ ডলারের সমান। যদিও সরকার নতুন বছরে মজুরি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতির সামনে তা নগণ্য। এছাড়া সরকারের দেওয়া মাসে মাত্র ১০ ডলার সমমূল্যের খাদ্য ভর্তুকি দিয়ে টিকে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তেহরানে প্রায় ৬৪ দিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা ও ব্যাংকিং খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। : যুদ্ধের প্রভাবে তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে।

তেহরানের এক সাধারণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, "দাম আর আয়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। আমরা এখন বেঁচে থাকার লড়াই করছি। কালকের চেয়ে আজই সস্তা, তাই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস এখনই কিনে ফেলছে।" অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত শান্তি আলোচনা বা অবরোধ প্রত্যাহার না হলে ইরানের এই সংকট অচিরেই সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।

মন্তব্য করুন