নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশে শ্রম আইন বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে নানা মহলে ভিন্ন ভিন্ন অভিমত দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি এসেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা এই আইনের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছেন।
নতুন শ্রম আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সহজীকরণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিনে বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধের মতো বিধানও এতে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া ছোট প্রতিষ্ঠানে মাত্র ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতেই ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে শ্রমিক নেতাদের মতে, নতুন আইনে একটি কারখানায় পাঁচটি ইউনিয়নের পরিবর্তে তিনটি ইউনিয়নের সীমা নির্ধারণ করায় তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে। শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু অভিযোগ করেন, যে আইনে মালিকরা খুশি হন, সেখানে শ্রমিকের প্রকৃত কল্যাণ থাকে না। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এই আইনে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। অন্যদিকে, ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা বাস্তবায়নে কিছু মালিকপক্ষের গড়িমসির অভিযোগও রয়েছে।
মালিকপক্ষের দাবি, শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে কিছু আপত্তি ছাড়া আইনটি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং তারা তা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। বিকেএমইএর সভাপতি মো. হাতেম জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে থাকায় সেখানে আইনের প্রয়োগ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সিপিডির মতে, কার্যকর শ্রম আইন বাস্তবায়নে সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় সদিচ্ছা প্রয়োজন।
আই.এ/সকালবেলা