বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস চ্যাম্পিয়ন, পর্তুগালের কাছে হারবে আর্জেন্টিনা : ক্লেমেন্ট
গাণিতিক মডেলে ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিলের বিদায় জাপানের কাছে!
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির প্রতিটি ম্যাচের সঠিক ফল মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল ‘পল’ নামের এক অক্টোপাস। অলৌকিক ক্ষমতার তকমা পাওয়া সেই অক্টোপাসের পর এবার ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন একজন মানুষ এবং তাঁর তৈরি করা একটি জটিল গাণিতিক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল। তিনি জার্মান অর্থনীতিবিদ ইয়াকিম ক্লেমেন্ট। ২০১৪ সাল থেকে নিখুঁতভাবে বিশ্বকাপের প্রতিটি চ্যাম্পিয়ন দলের নাম মিলিয়ে আসা তাঁর এই মডেল এবার ২০২৬ সালের ট্রফি বিজয়ী হিসেবে বেছে নিয়েছে ভার্জিল ফন ডাইক ও কোডি গাকপোদের নেদারল্যান্ডসকে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী এই জার্মান অর্থনীতিবিদের পরিসংখ্যান মডেলটি শুধু চ্যাম্পিয়ন দলই নির্ধারণ করেনি, বরং পুরো ৪৮ দলের টুর্নামেন্টের এক রোমাঞ্চকর চিত্রও সামনে এনেছে। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফুটবল ভক্তদের বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হতে পারে নকআউট পর্বেই। কারণ, দ্বিতীয় রাউন্ডে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে দিতে পারে জাপান। অন্যদিকে, একই ধাপে স্কটল্যান্ডকে বিদায় করতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া।
ক্লেমেন্টের এই জটিল সমীকরণ বলছে, কিলিয়ান এমবাপেদের মতো তারকাদের টপকে ইংল্যান্ড এবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে। তবে ২০০৬ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে শেষ চারে হ্যারি কেনদের পথ আটকে দেবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। অর্থাৎ, মেগা ফাইনাল হতে যাচ্ছে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে। তবে এই মডেলে লিওনেল মেসির ভক্তদের জন্য রয়েছে দুঃসংবাদ। হিসাব অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের মুখোমুখি হয়ে হেরে বিদায় নেবে আর্জেন্টিনা।
নিজের এই অদ্ভুত গবেষণার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে ইয়াকিম ক্লেমেন্ট গণমাধ্যমকে বলেন, "এটা শুরু হয়েছিল মূলত অর্থনীতিবিদদের সেই অহংকার দেখানোর জন্য, যাঁরা মনে করেন তাঁরা এমন বিষয়ও ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন, যেগুলো সম্পর্কে তাঁদের আসলে কোনো ধারণাই নেই। এর উদ্দেশ্য কখনোই কাউকে নির্দিষ্ট ফল জানিয়ে দেওয়া বা বাজিতে জেতার উপায় বের করা ছিল না। বরং আমি দেখাতে চেয়েছিলাম, ফুটবলের মতো অনিশ্চিত খেলার ফলাফল আগেভাগে অনুমান করার চেষ্টা কতটা হাস্যকর হতে পারে।"
পূর্বাভাসের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের চাপ নিয়ে তিনি একটি গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয় নিখুঁতভাবে মিলে যাওয়ার পর মানুষ এখন তাঁকে একজন ‘গুরু’ ভাবতে শুরু করেছে। তিনি ভেবেছিলেন ২০১৮ সালের হিসাব ভুল হলেই এটি কেবল একটি কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে ধামাচাপা পড়ে যাবে। কিন্তু টানা তিনবার সফল হওয়ার পর এখন মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।
তবে পুরোপুরি বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মডেলে কিছু কাঠামোগত বিষয় কাজ করে বলে জানান ক্লেমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে দেশের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শক্তি, আবহাওয়া এবং ফিফা র্যাঙ্কিং। এত কিছুর পরও পাঠকদের সতর্ক করে তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "এখানে বাকি ৫০ শতাংশ হলো সম্পূর্ণ ভাগ্য। বিশেষ করে যখন সমশক্তির দুটি দল মুখোমুখি হয়, তখন ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে সেদিনের ফর্ম, রেফারির একটি সিদ্ধান্ত কিংবা বল পোস্টে লেগে ফিরে আসার মতো অনিশ্চিত ঘটনার ওপর। তাই এই পূর্বাভাসকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে না দেখাই ভালো।"
বর্তমানে বিনিয়োগ ব্যাংক প্যানমুর লাইবেরামে স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে কর্মরত ক্লেমেন্টের কাছে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার মাঝে এই মডেলটি একধরনের বিনোদনের জায়গা। তবে সহকর্মী ও বন্ধুদের অতি-উৎসাহে কিছুটা চিন্তিতও তিনি। নেদারল্যান্ডসের তারকা মিডফিল্ডার জাভি সিমন্সের ইনজুরি এই মডেলে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অফিসে প্রতিনিয়ত প্রশ্নের মুখে পড়ছেন তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে সব ধরনের সতর্কতা জারি করে এই অর্থনীতিবিদ রসিকতার সুরে বলেন, "আমার কয়েকজন সহকর্মী এই গবেষণার নোট দেখে ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডসের ওপর বাজি ধরে বসে আছেন। নেদারল্যান্ডস যদি এবার সত্যি সত্যি বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগে বাদ পড়ে যায়, তবে পরের দিন অফিসে না গিয়ে আমাকে সম্ভবত বাসা থেকেই কাজ করতে হবে।"
|